মধুসূদনের একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১), যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হিসেবে খ্যাত। ইতিহাসের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত এটিই প্রথম বাংলা নাটক । নারীর প্রতি ধনলোভী কপট পুরুষের প্রতিহিংসা এবং তার ফলে নিরপরাধ তরুণীর আত্মহুতি 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের মূল বিষয়। চাটুকার ধনদাস স্বীয় স্বার্থ উদ্ধারের জন্য জয়পুরের রাজা জগৎসিংহকে উদয়পুরের রাজকন্যা কৃষ্ণার চিত্রপট দেখিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাবে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু বিলাসবতীর সহচরী মদনিকা ধনদাসের দুরভিসন্ধি নস্যাৎ করে দিয়ে কৌশলে মানসিংহের প্রতি কৃষ্ণাকে অনুরাগী করে তোলে এবং কৃষ্ণার জবানিতে মদনিকা মানসিংহকে পত্র দিলে মানসিংহও কৃষ্ণাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। জগৎসিং ও মানসিংহ উভয়ের একই কথা কৃষ্ণাকে না পেলে উদয়পুর আক্রমণ করবে। কৃষ্ণা সবকিছু জানতে পেরে রাজ্যের কল্যাণের কথা ভেবে আত্মহুতি দেয়। শিল্পী এ নাটকে ইতিহাসের তথ্য অক্ষুন্ন রেখে একাধারে ভীমসিংহের ট্রাজিক পরিণতি, দেশ জাতির কল্যাণের জন্য কৃষ্ণার আত্মদানের অনুষঙ্গ টেনেছেন।