"কোন কাননের ফুল" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: মালা আর আগের মালা নেই। টুকটুকে ফর্সা সুন্দর গােলগাল মিষ্টি মেয়েটি আর নেই মালা। স্বাস্থ্য খুবই খারাপ হয়েছে তার। মিষ্টি মুখটা ভেঙেচুরে চোয়ারে ধরনের হয়ে গেছে। ফর্সা রংয়ের ওপর ময়লার পাতলা একটা আস্তর পড়েছে। টানা টানা অসম্ভব সুন্দর চোখ দুটোয় কী রকম ঘাের লাগা সদূরের দৃষ্টি। অলিকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ছােট্ট করে একটা শ্বাস ফেলল মালা। অমন করে কী দেখছ গাে? বুকের কাছে শার্টের বােতাম খােলা অলির। মালা তার ডানহাতটা অলির খােলা বুকে রাখল। আস্তে আস্তে বুলিয়ে দিতে লাগল। সারাদিন কোথায় কোথায় থাকো তুমি! দুপুরে খেতে আসাে না। বিকেলে নাশতা খেতে আসাে না। তােমার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আমারও খাওয়া হয় না। আমাকে এত কষ্ট দাও কেন তুমি । দেখছ না আমার শরীর কী খারাপ হয়েছে? অলির নাকটা একটু টিপে দিল মালা। শিশুদের নাক টিপে যেমন আদুরে এবং আধাে আধাে গলায় কথা বলে তেমন করে বলল, এসবের জন্য তুমি দায়ী! তুমি। আমার সবকিছুর জন্যে তুমি দায়ী। তােমার অপেক্ষায় থেকে থেকে, সময়মতাে না খেতে খেতে আমি যদি মরে যাই, আমার মৃত্যুর জন্যে তাহলে তুমি দায়ী হবে। অলি কী করবে বুঝতে পারছিল না। কী বলবে কিছু বুঝতে পারছিল না। এ রকম পরিস্থিতিতে জীবনে কখনও পড়েনি সে। উঠে বসবে, ক্ষমতা নেই। বুকের ভেতর কেমন করছে। শরীর অবসন্ন। মনে হচ্ছে নড়াচড়ার শক্তি পর্যন্ত লােপ পেয়েছে। আগের মতােই ফ্যাল ফ্যাল করে মালার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল অলি।