কবিতা-জীবনের অংশ। কবিতা ছাড়া মানুষ, মানুষ বাদে কবিতা হয়? কবিতা জীবনকে যত কাছ থেকে দেখতে পারে, সাাহিত্যের অন্য কোনো মাধ্যম তেমনটি পারে কী? কবিতা যা বলতে পারে, করতে পারে এমনটি অন্য কোনো শাখা পারে কিনা এটা দার্শনিক প্রশ্ন। দার্শনিকদের হাতেই ছেড়ে দিই এর মিমাংসার ভার। কবিতার গ্রাম কাব্যতাগ্রন্থে গ্রাম-বাঙলার অপার প্রাকৃতিক-সৌন্দর্য, সমুদ্রের বিশালতা, নদীর সঙ্গে প্রেম, উড়ন্ত মেঘের খেলা, পাখির গান শোনা যায়। গ্রন্থে ভাষা-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক বৈষম্য, শোষণ-মুক্তিরগান প্রতিধ্বনি হয়েছে। রাষ্ট্র ও জনগণের দূরত্ব, গণ-মানুষের জাগরণ ও বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর কবিতা। আধুনিকতা ও সমাজ পরিবর্তন যেন জমজ সহদর। কবিতা ঘুরে দাঁড়িয়েছে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। মানবতাহীন জীবন অচল আধুলির মতো। কবিতার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্বোচ্ছার। একজন যুদ্ধাপরাধীর চাঁদ-ভ্রমণ নিয়ে ব্যঙ্গ, নির্মম বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড বিষয় গ্রন্থে স্থান করে নিয়েছে। গ্রাম থেকে শহরের ইট-কাঠ-পাথর কবিতার চোখ এড়ায়নি। নিগ্রোদের ওপর বর্ণবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে কবিতা প্রচণ্ড প্রতিবাদী। বুক সাদা দোয়েল, শালিকের ডাক, টিয়ার লাল ঠোঁটের স্পর্শ, ময়না ও ঘু ঘু-র মধুর ডাক কবিতায় রৌদ্রের মতো ঝরেছে। আবার বকুল, শিমুল, রক্তজবা কবিতার প্রাণ ছুঁয়েছে। ধনি-গরিবের বৈষম্য, নারী-স্বাধীনতা, শোষিতের শৃঙ্খল-মুক্তি, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, সমাজতন্ত্র মুক্তির পথ গ্রন্থে তার প্রকাশ হয়েছে। কবিতার গ্রাম কাব্যগ্রন্থটি সৃষ্টিশীলতার নির্যাস।