চিরায়ত উপন্যাস হিসেবে ‘কবি’ লিখেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। বইটিতে আছে ২৫৬ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st।
এই ঘটনাটাকে কেবল অস্বাভাবিক বলিলেই চলিবে না—ইহা একপ্রকার মানসিক ভূমিকম্প। যে ছেলে কণ্ঠ ফাটাইয়া গালিগালাজে পারদর্শী ছিল, খুন্তি হাতে মদ খাইয়া পথে নামিত, হঠাৎ সে কবিতা লিখিতে আরম্ভ করিল। হ্যাঁ, ঠিক শুনিতেছেন—কবিতা!
গ্রামের মোড়ে বসিয়া যে ছেলেটা অশ্লীল ছড়া গাইয়া বাহবা লুটিত, সে এখন নদীর ধারে বসিয়া লিখে—“বাঁশির সুরে জেগে ওঠে আকাশের নীল অরণ্য।” এ কি সম্ভব? লোকজন প্রথমে হাসিয়া উড়াইয়া দিল, পরে অবিশ্বাস করিল, তারপর একসময় থমকে দাঁড়াইয়া ভাবিল—আচ্ছা, সত্যিই কি সে বদলাইয়া গিয়াছে? এ কি ঈশ্বরের খেলা? না কি কোনো মানসিক ব্যাধি?
মেয়েরা কানে কানে বলিল—”গঙ্গার জল খাইছে মনে হয়। না হইলে ডাইল-ভাত খেয়ে এমন কথা মুখে আসে?”
যে বংশে তার জন্ম, সে বংশে মানুষ জন্মে চোর হয়, জুয়াড়ি হয়, দরকার পড়িলে খুন করিতে দ্বিধা করে না—কিন্তু কবি? ও বংশে কেউ কভু কলম ধরিয়াছে, এমন কথা কেহ শুনে নাই। তারা ঝাঁটার হাতল ধরে, না হয় লাঠি। কলমে তো রক্ত উঠে, কালি নয়।
তার নাম রতন। বাবা লোহার কাজ করিত, পাথর ভাঙিতে গিয়া মরিয়াছিল। মা মরিল লোহার কামড়ে—তাল পাখার হাতলে বৈদ্যুতিক তার জড়াইয়া ছিল। সংসার আগেই ছিন্ন, রতনের শৈশব কাটিয়াছে গরু চরাইয়া, আর মাঠের পটল চুরি করিয়া।
তার মামা গোবিন্দ কর্মকার, যাকে গ্রামে “গোব্বা ডাকাত” বলিয়া ডাকা হয়, কারণ তিনবার থানার ফাঁদ ফাঁকি দিয়াছে—একবার তো নাকি হাতকড়ি সহই গাছে উঠিয়া চম্পট।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।