মহল্লার সবচেয়ে ডানপিটে ছেলে ছিল জহির। পড়াশুনায় তেমন ভালো ছিল না। কিন্তু প্রতিবছর ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দু-চারটা পদক যেন ওর জন্যেই বরাদ্দ। ক্লাস এইটে পড়ার সময় হঠাৎ জানা গেল জহিরের মাকে চিকিৎসার জন্যে মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপরে স্কুলে ওর বন্ধুর সংখ্যা কমে গেল ঠিকই কিন্তু দুরন্ত স্বভাবটা গেল না। রফিক সেই হাতেগোনা কয়েক বন্ধুর মধ্যে একজন। এসএসসি পাশের পরে জহিরের সাথে মাকে দেখতে একবার পাবনা গিয়েছিল রফিক। ওদেরকে তিনি চিনতে পারেননি। সেই রাত্রে দু’বন্ধু স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গলা জড়াজড়ি করে কেঁদেছিল। সেই রাত্রে ওরা অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। কৈশোর পেরোনো তারুণ্য মানুষের জীবনে এক আশ্চর্য সময়। একদিকে পড়ালেখা, কেরিয়ার চিন্তা, ইগো অন্যদিকে বনজোছনার মতো বাঁধ ভাঙা প্রেম। কখনো দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নিস্ফল আক্রোশ। কখনো একা বাঁচতে শেখার অভিমান। কখনো হার-জিতের মাঝে কিছু না বলা কথার প্রতিশোধ। সেইসব কয়েকজন একা হৃদয়ের জলছবি এক মলাটে।