‘ক্ষণিকা’ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কলমে চিরায়ত কাব্য বিষয়ক বই। প্রকাশক বাংলাপ্রকাশ। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ১৫২ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2024 নিয়ে।
রবীন্দ্রপ্রতিভার দীপ্তি বাংলার সমাজ ও সভ্যতাকে দারুণভাবে আলোকিত করে তোলে। তিনি বিচিত্র আঙ্গিকের সাহিত্যকর্মে আত্মনিয়ােগ করেছিলেন। তার কবিজীবন ছিল দীর্ঘ ও বহু সৃষ্টিসম্ভারে পূর্ণ। মানসী-সোনারতরী কাব্য থেকে তার বিকাশ পর্ব শুরু হয়। পরবর্তীকালে কল্পনার জীবন থেকে নৈবেদ্যর জীবনের মধ্যে একটি স্বাভাবিক পরিণতি লক্ষণীয়। বস্তুত যে গভীর ও গম্ভীর জীবনের আকুতি কল্পনায় প্রতিভাত তার পরিণতি নৈবেদ্য থেকেই শুরু হয়। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিবর্তন পর্যায়ে একটি অপরূপ কাব্যগ্রন্থ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে রচিত হয় : সে কাব্য ক্ষণিকা। এর নামকরণের মধ্যে কাব্যের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত। এক জীবন থেকে অন্য জীবনে রূপান্তরের মধ্যবর্তী কয়েক মাসের জন্যই ক্ষণিকার উদয় ও অন্ত। ১৩০০ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষণিকা কাব্যে আমরা কবি-ভাবনা ও প্রকাশরীতিতে পরিবর্তন লক্ষ করি। চৈতালি-কাল থেকে দীর্ঘদিন রবীন্দ্রনাথের মন্ময় ভাব ও বিষন্নতার জগতে কেটেছে। কণিকা, কল্পনা, কথা, কাহিনী পেরিয়ে ক্ষণিকায় এসে কবি পুরাতন গভীর ভাবনা ও গাম্ভীর্য থেকে মুক্ত হয়ে অনেকটা নির্ভার ও চটুল হয়ে উঠেছেন। এই কাব্য বিশ্বাত্মবােধের কোনো গভীর তত্ত্ব বা সৌন্দর্যধ্যান-রহস্যের ভাষ্য নয়, এতে পাই যাবতীয় দ্বৈরত্ব অতীত এক নির্মল ও স্বচ্ছন্দ কবি-স্বভাবের পরিচয়। কবি হিসেবে যে রবীন্দ্রনাথ লঘু কল্পনাকেও পরিত্যাগ করেন না এখানে তা বােঝা যায়।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।