‘কত না অশ্রুজল’ বইটির লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী; এটি একটি বিবিধ বিষয়ক প্রবন্ধ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ২০৮ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Edition, 2015।
“কত না অশ্রুজল” বইটির প্রথম অংশ থেকে নেয়াঃ এ বইয়ে আছে গত বিশ্বযুদ্ধে যারা জড়িয়ে পড়েছিল,অর্থাৎ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সৈনিকরূপে একে-অন্যকে নিধন করতে হয়েছিল,তাদের শেষ চিঠি,ডাইরির শেষ পাতা। এ বিশ্বযুদ্ধ থেকে অল্প দেশই রেহাই পেয়েছিল সেকথা আমরা জানি। শান্তিকামী ভারত,এমনকি যুদ্ধে যােগদান না করেও নিরীহ এসৃকিমােও এর থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। এবং শুধু তাদেরই লেখা নেওয়া হয়েছে যারা এ যুদ্ধে নিহত হয় বা যুদ্ধে মারাত্মকরূপে আহত হওয়ার ফলে যুদ্ধের কয়েক বৎসর পরেই মারা যায় কিংবা যারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহুদূরে শান্তিপূর্ণ দেশে বাস করার সময় যুদ্ধের বীভৎসতা,আত্মজন বিয়ােগের শােকে কাতর হয়ে আত্মহত্যা করে। কিন্তু এত দীর্ঘ অবতরণিকা করার কণামাত্র প্রয়ােজন নেই। দুএকটি চিঠির অনুবাদ পড়ে সহৃদয় পাঠক বুঝে যাবেন,এ অবতরণিকা কতখানি বেকার। গত যুদ্ধে ফ্রান্স পরাজিত হলে পর জর্মন সৈন্যরা সেখানে কায়েম হয়ে দেশটাকে অকুপাই’ করে। সঙ্গে সঙ্গে বহু ছেলেমেয়ে,তরুণ-তরুণী,বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা গড়ে তােলে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মুভমেন্ট’। তারা মােকা পেলে জর্মন সৈন্যকে গুলি করে মারে,রেললাইন,তাদের বন্দুক-কামানের কারখানা ডাইনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় এবং আরাে কত কী! এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের আপন দেশেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অজানা নয়।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।