সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ বাংলা উপন্যাসে এক ব্যতিক্রমী নির্মাণ, যেখানে নদী শুধু পটভূমি নয়, বরং নিজেই এক শোকার্ত উপস্থিতি। স্টিমারের যাত্রীদের ভিড়ে এক কথক শোনে তবারক ভুইঞার বয়ান, আর সেই বয়ানের ভেতর দিয়ে ফুটে ওঠে কুমুরডাঙ্গা নামের এক জনপদের অসহায় মানুষের কথা, সঙ্গে মুহাম্মদ মুস্তফা নামের এক চরিত্রের ছায়া।
তবারকের মতে নদী যদি কেঁদে থাকে, তবে নিজের জন্য নয়, কুমুরডাঙ্গার মানুষের দুঃখেই কেঁদেছে। ঘাটে ভিড়তে থাকা স্টিমারের চারপাশে গর্জে ওঠা পানির শব্দে কথকের মনে হয়, নদী হয়তো সবার জন্যই কাঁদে, নানা সুরে, নানা কণ্ঠে।
১৫২ পৃষ্ঠার এই উপন্যাস আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের শৈলী ও নিরীক্ষা নিয়ে আগ্রহী পাঠক, সাহিত্যের শিক্ষার্থী এবং ওয়ালীউল্লাহ্-অনুরাগীদের জন্য অপরিহার্য পাঠ।