বিষণ্ন এক বিকেল, চারদিক সুনসান নীরব। মৃদু হাওয়ায় কাঠগোলাপ গাছের পাতাগুলো সামান্য দুলছে, সেই সাথে আনমনে দুলছে নারকেল গাছের পাতাগুলোও। মাঝে মাঝে মৃদু হাওয়া এসে ঝাপটা মেরে যাচ্ছে ইরার চোখেমুখে। অয়নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে সে। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে, কিন্তু তার ভিতরটাতে কোনো অপরাধবোধ কাজ করছে না। শুধু তীব্র ব্যথায় বুকের ভিতরটা কেমন করছে। যে মানুষ জেনেশুনে অপরাধ করে তার আসলে অপরাধবোধ কাজ করেও না। কিন্তু ইরা নিরুপায়, অপরাধ করা ছাড়া তার জন্য আর কোনো পথ খোলা ছিল না। সবকিছু শোনার পর অয়ন হয়ে পড়েছে অনুভূতিহীন এক ভঙ্গুর মানুষ। কাল বিকালের ঘটনা শোনে সে চুপচাপ বসে কেঁদেছে। ভেবেছিল আর কোনোদিন ইরার মুখোমুখি হবে না, কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলো না। যখনি ইরার ফোন পেয়েছে তখনি পৃথিবীর সবকিছু উপেক্ষা করে সে উল্কার বেগে ছুটে এসেছে। অয়নের মনে হচ্ছে এতকিছুর পরও হয়তো ইরা তাকে আজ বলবে, চলো আমরা পালিয়ে যাই, দূরে অনেক দূরে কোথাও। সমস্ত দুর্ভেদ্য দ্বিধার দেয়াল ভেঙে তারা দু'জনে এক হয়ে যাবে। কিন্তু ইরার যে সেই দেয়াল টপকানোর সাধ্য নেই, এটা মেনে নিতে বা এটা মানিয়ে নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার। অয়ন হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ইরার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো, তারপর ইরার হাতটি টেনে ঠোঁটের কাছে এনে দীর্ঘক্ষণ চুমু দিয়ে ধরে রাখলো। ইরা কোনো কথা বলল না, অয়নকে ছাড়ানোর প্রয়োজনবোধও করলো না। তার চোখ বেয়ে নেমে যাচ্ছে অবিরল কান্নার জল। সেই জল টপটপ করে পড়ছে অয়নের মাথার উপরে।