‘জয়ন্ত মানিক সমগ্র ১-৩’ বইটির লেখক হেমেন্দ্রকুমার রায়; এটি একটি বয়স যখন ১২-১৭ বিষয়ক বই। প্রকাশক উপকথা প্রকাশন। সব মিলিয়ে ১৮০০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024।
এইবার আগে জয়ন্ত আর মানিকলালের একটুখানি পরিচয় দেওয়া দরকার। জয়ন্তের বয়স একুশ-বাইশের বেশি হবে না,তবে তার লম্বা- চওড়া চেহারার জন্যে বয়সের চাইতে তাকে অনেক বেশি বড় দেখায়। তার মতন দীর্ঘদেহী যুবক বাঙালি জাতির ভিতরে বড় একটা দেখা যায় না,তার মাথার উচ্চতা ছয় ফুট চার ইঞ্চি। ভিড়ের ভিতরেও সে নিজেকে লুকোতে পারত না,সকলের মাথার উপরে জেগে থাকত তার মাথাই। রীতিমতো ডন-বৈঠক,কুস্তি,জিমনাস্টিক করে নিজের দেহখানিকেও সে তৈরি করে তুলেছিল! বাঙালিদের ভিতরে সে একজন নিপুণ মুষ্টিযোদ্ধা বলে বিখ্যাত। আপাতত এক জাপানি মল্লের কাছ থেকে যুযুৎসুর কৌশল শিক্ষা করছে। মানিকলাল বয়সে জয়ন্তের চেয়ে বছর দুই-এক ছোট হবে। নিয়মিত ব্যায়ামাদির দ্বারা যদিও তারও দেহ খুব বলিষ্ঠ,কিন্তু তার আকার সাধারণ বাঙালিরই মতন,ইচ্ছে করলেই সে আর পাঁচজনের ভিতরে গিয়ে অনায়াসেই আপনাকে লুকিয়ে ফেলতে পারত। জয়ন্ত ও মানিকলাল দুজনেই এক কলেজে পড়াশুনা করত,কিন্তু ‘নন-কো-অপারেশন’ আন্দোলনের ফলে তারা দুজনেই কলেজি পড়াশুনো ত্যাগ করেছিল। তারা দুজনেই মাতা-পিতৃহীন,কাজেই স্বাধীন। দুজনেরই কিছু-কিছু পৈতৃক সম্পত্তি আছে,কাজেই তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবার ভয়ও নেই। ছেলেবেলা থেকেই তাদের ভারি শখ,বিলাতী ডিটেকটিভের গল্প পড়বার। এসব গল্প তারা একসঙ্গে বসেই পড়ত এবং গল্প শেষ হলে তাদের ভিতরে উত্তপ্ত আলোচনা চলত!
শিশু-কিশোর পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।