তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘জলসাঘর’ — চিরায়ত গল্প। প্রকাশক সালাউদ্দিন বইঘর। এর কলেবর ১৪২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) শরচন্দ্রের পরে বাংলা কথাসাহিত্যে পূর্ণশক্তিধর প্রতিভা। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতার নাম প্রভাবতী দেবী । গ্রামের হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯১৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । তারপর কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে আই.এ ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়াশোনা অসমান্ত রেখেই গ্রামে ফিরে যান ।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজে পড়াশোনার সময় অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের অপরাধে ১৯২১ সালে কারা-নির্যাতন ভোগ করেন। ১৯৩০ সালে ‘আইন অমান্য' আন্দোলনে যোগদান করে তিনি আবারও কারা বরণ করেন। কারাগারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যে পরিচয় তিনি পেয়েছিলেন তা তার শিল্প-মানসকে পীড়িত করেছিল । তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, প্রত্যক্ষ রাজনীতি আর নয়, সাহিত্য বেসার পথেই তিনি দেশের সেবা করবেন ‘পদচিহ্ন' এবং ‘কালান্তর' উপন্যাস অনেকটা তাঁরই আত্মজীবনী । কালান্তরের নায়ক গৌরীকান্ত সম্পর্কে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'দীর্ঘদিনে সে জীবনসাধনায় সার্থক হয়েছে—সে এখন প্রতিষ্ঠাবান সাহিত্যিক; তার সাহিত্য এই স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে মানুষের জীবনসংগীত ।’ গৌরীকান্ত সম্পর্কে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উক্তি তাঁর নিজের সম্পর্কেও অনেকটা মিলে যায় ।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।