‘জীবনস্মৃতি’ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কলমে লেখা। বিশ্বসাহিত্য ভবন থেকে প্রকাশিত। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ১৫৮ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2016 নিয়ে।
"জীবনস্মৃতি" বই এর সূচনা থেকে নেয়াঃ
স্মৃতির পটে জীবনের ছবি কে আঁকিয়া যায় জানি না । কিন্তু যেই আঁকুক সে ছবিই আঁকে। অর্থাৎ, যাহা-কিছু ঘটিতেছে তাহার অবিকল নকল রাখিবার জন্য সে তুলি হাতে বসিয়া নাই । সে আপনার অভিরুচি-অনুসারে কত কী বাদ দেয়, কত কী রাখে। কত বড়ােকে ছােটো করে, ছােটোকে বড়াে করিয়া তােলে। সে আগের জিনিসকে পাছে ও পাছের জিনিসকে আগে সাজাইতে কিছুমাত্র দ্বিধা করে না। বস্তুত, তাহার কাজই ছবি আঁকা, ইতিহাস লেখা নয় । এইরূপে জীবনের বাহিরের দিকে ঘটনার ধারা চলিয়াছে, আর ভিতরের দিকে সঙ্গে সঙ্গে ছবি আঁকা চলিতেছে ।
দুয়ের মধ্যে যােগ আছে, অথচ দু’ই ঠিক এক নহে। আমাদের ভিতরের এই চিত্রপটের দিকে ভালাে করিয়া তাকাইবার আমাদের অবসর থাকে না। ক্ষণে ক্ষণে ইহার এক-একটা অংশের দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি । কিন্তু, ইহার অধিকাংশই অন্ধকারে অগােচরে পড়িয়া থাকে । যে-চিত্রকর অনবরত আঁকিতেছে, সে যে কেন আঁকিতেছে, তাহার আঁকা যখন শেষ হইবে তখন এই ছবিগুলি যে কোন্ চিত্রশালায় টাঙাইয়া রাখা হইবে, তাহা কে বলিতে পারে । কয়েক বৎসর পূর্বে একদিন কেহ আমাকে আমার জীবনের ঘটনা জিজ্ঞাসা করাতে, একবার এই ছবির ঘরে খবর লইতে গিয়াছিলাম। মনে করিয়াছিলাম, জীবনবৃত্তান্তের দুই-চারিটা মােটামুটি উপকরণ সংগ্রহ করিয়া ক্ষান্ত হইব ।
কিন্তু, দ্বার খুলিয়া দেখিতে পাইলাম, জীবনের স্মৃতি জীবনের ইতিহাস নহে- তাহা কোন-এক অদৃশ্য চিত্রকরের স্বহস্তের রচনা ।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত বইপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।