জীবনানন্দ দাশ [১৮৯৯-১৯৫৪] বেঁচে থাকতে ছিলেন নির্জন, প্রান্তবাসী এক কবি; বেকারত্বের আঘাত সয়েছেন, অর্থ-সম্পদে সফল হননি, দীর্ঘদিন কুড়িয়েছেন নিন্দা। অথচ মৃত্যুর পরপরই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা কবিতার কীর্তিমান পুরুষ। সিরাজ সালেকীনের একশো বিশ পৃষ্ঠার এই জীবনীগ্রন্থ সেই বৈপরীত্যকে সামনে রেখে প্রশ্ন তোলে: জীবনের সাফল্য আর ব্যর্থতা মাপার মানদণ্ড আসলে কী?
বইটি জীবনানন্দের রহস্য ভেদ করার দাবি করে না। বরং কবি, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক এই মানুষটির যাপনের ভেতর দিয়ে তাঁর চিন্তার গতিপথ আর বিকাশের ধারা খোঁজে। লেখকের কাছে জীবনী মানে যাপনের আয়নায় দেখা মানুষ, আর জীবনানন্দ নিজেও লেখা ও জীবনকে আলাদা রাখতে চাননি।
জীবনী গ্রন্থমালার এই খণ্ডটি জীবনানন্দ-অনুরাগী এবং আধুনিক বাংলা কবিতার পাঠকের জন্য ভাবনার খোরাক জোগাবে।