যাযাবর পাখি চাঁদেতে যাব না আর, জোছনা ছোঁয় না পোড়া আঁখি, হায় ভালোবাসা হতে নির্গত প্রেম, হাজার বছর ধরে তাই বুঝি আমি পৃথিবীতে রয়েছি একাকী। এতোদিন পরে এলে পরাজিত যাযাবর পাখি, বসলে মন্দিরে মোর দেহখানি ছুঁয়ে দিলে তুমুল ঝড়ে প্রস্ফুটিত রঙিন ফুলের মতন, কেঁপে কেঁপে উঠি আমি মুহূর্তে হই দিশেহারা মিনতি আমার রাখ, বাঁচতে চাই না আর আমি তুমি ছাড়া। এতো দিন পরে এলে—বসন্ত বিবাগী হলো শুকালো কামনার করতোয়া নদী জল—শীতল হাওয়ার রাত আবার কি পরশিবে বাসনার কাশফুল, পাঁজরে মরমর মরণ মোহন হোলি খেলা রাঙা রক্তের আরক্তিম জীবন আমার কোথায় ভাসাবো বলো ভালোবাসার সুনিপুণ ভেলা? এতোদিন পরে এলে পাখি নীড়ে— আমার মলিন বুকে তৃষ্ণার ঢেউ ভাঙে প্রতীক্ষার বিষে নীল চোখ আমার—অন্ধকার করেছে দখল, এসো পাখি এই দেহ এই মনে, তব পায়ে ঢেলে দেব দু’চোখের জল তব বুকে মেখে দেব চোখের কাজল। খুঁজে নেব নষ্ট সুখ, নষ্ট প্রেম, নষ্ট আলোছায়া যে বাঁধন বেঁচে আছে বিশ্বাসে, যে জীবন বেঁচে থাকে নিঃশ্বাসে, তার তরে দাও তুমি এতোটুকু মায়া। এতোদিন পরে এলে পরাজিত যাযাবর পাখি হাজার বছর ধরে তোমার প্রতীক্ষায় আমি বুঝি ছিলাম একাকী!