লেখক শিশির ভট্টাচার্য্য-এর বই ‘ঈশ্বর ধর্ম বিশ্বাস’। আদর্শ-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়।
যত দিন না ভিনগ্রহের কোনো প্রাণীর সাথে মানুষের দেখা হয়, অথবা একদা-মৃত কোনো মানুষ পৃথিবীতে ফিরে এসে নিজের পরলোক-ভ্রমণ-কাহিনি লিখে উঠতে পারেন। ব্রেখটের গোদোর মতো সেই শুভক্ষণের অপেক্ষা না করে বর্তমান পুস্তকের প্রথম প্রবন্ধে ‘সেমিওলজি’ নামক শাস্ত্রের আলোকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রবন্ধে হিন্দু দর্শনের আলোকে ধর্মের স্বরূপ নিয়ে আলোচনা আছে। তৃতীয় প্রবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে ম–র্তিনির্মাণের বৈধতা-অবৈধতার প্রসঙ্গ এসেছে এবং ধর্মান্ধতা ও জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্বের স্বরূপ উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে। চতুর্থ প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে কিভাবে বহু প্রাচীন প্যাগান সমাজে প্রচলিত বৃড়্গপ–জা খ্রিস্টীয় ভাবধারার অনুসারী সমাজে ‘খ্রিসমাস ট্রি’ প্রথায় রূপান্ত্মরিত হয়েছে এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সমাজেও এই প্রথা ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। পঞ্চম প্রবন্ধে হিন্দু ধর্মের একাধিক ধর্মগ্রন্থ ও পুরাণে উলেস্নখিত ‘শক্তি’ নামক দেবীর বিভিন্ন জন্ম ও পুনর্জন্মের কাহিনি বৈঠকি ভঙ্গিতে বর্ণনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ প্রবন্ধে বাংলাদেশের কোনো এক মাজারে কোনো এক বাবার ওরশের বর্ণনার মোড়কে মানব-মনের বিশ্বাস-বৈচিত্র্যের পক্ষে সযুক্তি সওয়াল উপস্থাপন করেছি। সপ্তম প্রবন্ধে বৈদিক যুগ থেকে সনাতন হিন্দুদর্শনের বিকাশের একটি নাতিদীর্ঘ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।