‘হোরেসের আর্স পোয়েটিকা’ বদিউর রহমান-এর লেখা অনুবাদ কবিতা। ঐতিহ্য-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। বইটিতে আছে ৭৯ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, February 2024।
ইতালির দক্ষিণ-পূর্ব ভেনাসিয়া অথবা এর আশপাশে কোনো স্থানে হোরেস জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্টপূর্ব ৬৫ অব্দের ডিসেম্বর। অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হোরেসের। প্রাথমিক শিক্ষার পর হোরেস দর্শনচর্চার উদ্দেশ্যে গ্রিস-রাজধানী এথেন্স যান। এথেন্সের বিভিন্ন একাডেমিতে হোরেস দর্শন ও বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন। গ্রিক ও ল্যাটিন উভয় ভাষায়ই তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
এসময় তিনি গ্রিক ভাষায় কাব্য রচনা শুরু করেন। কথিত আছে রোমের 'কূলদেবতা'র স্বপ্নাদেশে হোরেস গ্রিক ছেড়ে মাতৃভাষা লেটিন ভাষায় কাব্য রচনায় ব্রতী হন এবং আমৃত্যু রোমীয় ভাষায় কাব্যসাধনা করেন।
হোরেস ছিলেন মূলত কবি। ত্রিশ বছর কাব্যসাধনায় তিনি ল্যাটিন ভাষার অন্যতম প্রধান কবি হয়ে ওঠেন। কবি হোরেস কাব্যকলা তথা সাহিত্যতত্ত্ব নিয়ে ভেবেছেন এবং এ বিষয়ে একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। এই পুস্তিকাই বর্তমান 'আর্স পোয়েটিকা'। আর্স পোয়েটিকা কাব্যছন্দে রচিত। এর মোট পঙ্ক্তি সংখ্যা ৪৬৭। এই সীমিত পরিসরেই হোরেস কাব্যতত্ত্বের নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।
বলা হয় প্রাচীন সাহিত্য-সমালোচনার ধারায় এরিস্টটলের পরই হোরেসের অবস্থান। সাহিত্যালোচনার ধারাবাহিকতায় হোরেসের প্রয়োজনীয়তা তাই অপরিহার্য। অথচ বাংলা ভাষায় হোরেস প্রায় অনুপস্থিত। এই প্রয়োজনের তাগিদেই বর্তমান প্রয়াস।
'হোরেসের আর্স পোয়েটিকা' পাঠে সাহিত্য-তত্ত্বালোচনার ধারায় পাঠক এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পেতে পারেন।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।