লেখক ড. আবুল আহসান চৌধুরী-এর ‘হাসন রাজা : মরমি মৃত্তিকার ফসল’ পাঠকের সামনে এসেছে জীবনী ও স্মৃতিচারণ বিষয়ক বই হিসেবে। বইটি প্রকাশ করেছে উৎস প্রকাশন। সব মিলিয়ে ৩২০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st।
ফ্ল্যাপে লিখা কথা বাংলার মরমি লোকসংগীত বাঙালির মন-মনন-মানস ও ভাবসাধনার অন্তরঙ্গ স্মারক। এই দর্শন-দারিদ্র্যের দেশে লোকায়ত মরমি সাধকদের সংগীত-সাধনায় জীবন ও জগতের গভীর তাৎপর্য প্রতিফলিত- এক অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী প্রেমসাধনের ধারা সেখানে নিত্যবহমান। হাসন রাজা এই চেতনা ও আদর্শের এক মহান প্রতনিধি। শ্রীভূমি বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক হৃদয়। শীতলাং শাহ, আরকুম শাহ, শেখ ভানু, রাধারমণ, হাসন রাজা-মরমী সাধনার এ-সব ধ্রুপদী পুরুষের চারক্ষেত্র এ-পূণ্যভূমি। এই মরমী-বলয়ের কেন্দ্রে অবস্থান হাসন রাজার। তাঁর জীবন যেন উপন্যাসের বিন্যাসে রচিত-নাটকীয় বিস্ময়ে পূর্ণ। কখনো সামন্ত-স্বভাবের নিষ্ঠুর মানুষ, আবার কখনো করুণা-প্রেমে স্নাত এক রাজর্ষি। প্রবল ভোগতৃষ্ণায় তাড়িত রিপু-শাসিত এক রমণীমগ্ন পুরুষ কোনো এক মরমি ইন্দ্রজালের স্পর্শে মুহূর্তে রূপান্তরিত হয়ে যার উদাসী সাধকে। এ-হাসন রাজাকে ঘিরে গড়ে উটেছে নানা জনশ্রুতির রহস্যের জাল। তিনি নিজেকে উন্মেচিত করেছেন গানে গানে- অকপট আত্মভাষ্য রচিত হয়েছে তাঁর পদাবলিতে। হাসন রাজা ছিলেন গানের মানুষ-সেই গানের ভেতরে প্রচ্ছন্ন রয়েছে জীবনের কামনা-বাসনা আর জগৎ-রহস্যের নানা গুপ্ত কথা। স্বশিক্ষিত এই সাধককবি অস্তিত্ব-দর্শনের এমন কথা উচ্চরণ করেছেন, যা রবীন্দ্রমননেও অনুরণন তুলেছে-কবি হয়েছেন মুগ্ধ ও প্রাণিত। তাই গ্রাম্যসাধকের দর্শনকথা দেশান্তরের মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে রবীন্দ্রনাথের সৌজন্যে।
বিশেষ করে জীবনী ও স্মৃতিচারণ-এ আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। পছন্দের তালিকায় যোগ করুন বইপোকায়।