কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, বিশ্বাস আর বদলে যাওয়া সময়ের মহাকাব্যিক আখ্যান তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’। ১৯৫৫ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশের পর লেখক জীবদ্দশায় নয়টি সংস্করণে এটিকে বারবার ঘষেমেজে নিয়েছেন।
বাঁশবাঁদির কাহারদের লোকায়ত জগতের গভীরে লুকিয়ে থাকা আদিম সমাজচিত্র তারাশঙ্কর এঁকেছেন একজন নৃতত্ত্ববিদের চেয়েও নিবিড় মমতায়। রূপকের আড়ালে এখানে ধরা পড়েছে প্রান্তিক, অবহেলিত ভারতবর্ষের যুগবদলের দোলা। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় একে তারাশঙ্করের আধুনিকতম সৃষ্টি ও শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলোর একটি বলে মনে করতেন। এই উপন্যাসই লেখককে গণসাহিত্যের নির্ভীক অগ্রদূতের সম্মান এনে দিয়েছে।
তিনশো বাহান্ন পৃষ্ঠার এই ধ্রুপদী উপন্যাস আঞ্চলিক জীবন, লোকসংস্কৃতি ও চিরায়ত বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের সংগ্রহে থাকা উচিত।