‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখা চিরায়ত উপন্যাস। প্রকাশক উৎস প্রকাশন। এর কলেবর ২৮৮ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st।
লোকপুরাণ আশ্রিত সমাজ কী করে ভাঙনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে তারই এক অনন্য আখ্যান 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা'। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এ উপন্যাসে বিষয়ভুক্ত করেছেন কৌমসমাজের গোষ্ঠীজীবনকে। এর পটভূমিতে আছে সমান্তরাল দু'টি কাহিনি। একদিকে বাঁশবাঁদি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কোপাই নদীর হাঁসুলী বাঁকের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন সংহতির অনিবার্য ভাঙন, কৃষি-নির্ভর জীবনের অবসান। অন্যদিকে বাঁশবন-ঘেরা উপকথার হাঁসুলী বাঁকের বিরান প্রান্তরে পরিণত হওয়ার কথকতা। তারাশঙ্কর দেখিছেন হাঁসুলী বাঁকের গোষ্ঠীজীবনের বিনাশের ইতিহাস অর্থাৎ মূল্যবোধের বিপর্যয় এবং পরিণতিতে কাহার সম্প্রদায়ের নিজ গ্রাম থেকে উচ্ছেদ হওয়ার অধ্যায়। উপন্যাসে উঠে এসেছে যুদ্ধকালের ক্ষয়িষ্ণু রূপ। কীভাবে সেসময় নগদ অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বাস্তুহারা-সংস্কৃতিহারা কাহাররা পরিণত হয় যন্ত্রকলের দিনমজুরে।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।