লেখক আবদুল হাফিজ ও পার্ল এস বাক-এর ‘গুড আর্থ’ পাঠকের সামনে এসেছে অনুবাদ উপন্যাস হিসেবে। অনুবাদক আবদুল হাফিজ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ২৪০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 5th Printed, 2017 নিয়ে।
"গুড আর্থ" বইয়ের ভূমিকা:
কৃষিভিত্তিক, সামন্ততান্ত্রিক যে চীনের জনজীবনের আলেখ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা থেকে সমসাময়িক চীনের সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস, জীবনযাপন প্রণালী, সামাজিক মূল্যবােধ, বিভিন্ন শ্রেণীর পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় । মহৎ সাহিত্যের বিশিষ্টতা এখানেই। এ কারণেই সমাজতাত্ত্বিক-দার্শনিকরা বলে থাকেন যে, কোনাে দেশ-জাতি সম্পর্কে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে গেলেও সেই গভীর সত্য উন্মােচন করা কঠিন, সে সত্যটি হচ্ছে উপরােক্ত সমাজবিবর্তনের মূল শক্তি। অথচ একটি মহৎ উপন্যাস থেকে খুব সহজেই সেই সত্যটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। গুড আর্থ উপন্যাসটি শুরু হয়েছে ওয়াঙ লাঙ নামক যুবকের বিয়ের দিনের বিবরণ দিয়ে।
"গুড আর্থ" বইয়ের শুরু:
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রও ওয়াঙ লাঙ। সরল গ্রাম্য যুবক। চীনের যে-কোনাে শহর বা আধুনিকতার যে-কোনাে নগরকেন্দ্র থেকে অনেক দূরের গ্রামে তার বসবাস। তার সঙ্গে তার থাকে বৃদ্ধ পিতা। নেহাত দরিদ্র তারা। এত দরিদ্র যে সকালে কাশিকাতর পিতার সামনে গরম পানিভর্তি বাটি মেলে ধরার সময় তাতে এক চিমটি চায়ের পাতা মিশিয়ে দেবার সামর্থ্য পর্যন্ত নেই। তাদের বাড়ির সবগুলাে ঘর মাটির তৈরি। নিজেদের ক্ষেতের চৌকো মাটির ইট। নিজেদের ক্ষেতের উৎপন্ন গমের খড়ে ছাওয়া তাদের চালা। তাদের এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে থাকে পানির তীব্র অভাব। পুরাে শরীর ধুয়ে স্নান করা সেই সময় অনেক বড় বিলাসিতা।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।