শরতের কাশবন যদি সাদা না হয়ে গোলাপি হয়ে যায়। অথবা স্কুলের প্যাঁচানো সিঁড়িটা যদি রংধনু হয়ে যেত! তবে কেমন হতো? স্বপ্ন এ রকমই হয়। স্বপ্ন হলো শিশির ভেঙে বেরোনো অবাক রোদ্দুর। যা কেবল শিশুরাই দেখতে পায়। তাই শিশুসাহিত্য যতটা সরলমনে হয়, ততটা সরল কখনো নয়। শিশু-কিশোরদের নরম অথচ স্পর্শকাতর অনুভূতির জগতে লেখককে তাই ঢুকে যেতে হয় নাবিক সিন্দবাদ হয়ে। তিনি পৃথিবীর সঙ্গে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেন সহজিয়া ভঙ্গিমায়। প্রতিটি শিশুমন একেকটি গল্পের রঙিন দুনিয়া। এখানে ফুল হয়ে গল্প ফুটেই থাকে। দরকার কেবল একটু যত্ন করে তুলে আনার। তাই লেখক এই শিশু-আঙিনায় ফুল কুড়াতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে যান শৈশবে। এবং খুঁজে পান ছোটবেলার রঙিন ঘুড়ি, হারানো সাইকেল অথবা একজন জাদুকর, যিনি সবার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই তো শিশুর পৃথিবী। লেখক ও শিশু দুজনই শিশুতোষ গল্পে এক হয়ে খুঁজে বেড়ান, খুঁজে ফেরেন রুপালি আকাশ। এই আকাশে উড়তে উড়তে কখনো তারা স্পাইডারম্যান, কখনো ঘুড়ি। এসবের শেষ হয় না। যেমন শেষ হয় না শিশুর স্বপ্ন। লেখক দন্ত্যস রওশন, শিশুদের এই আজব দুনিয়ার আশ্চর্য রূপকার।