সমকালীন উপন্যাস হিসেবে ‘ঘরে ফেরার গান’ লিখেছেন কামরুল হাসান জনি। প্রকাশক সাহিত্যদেশ। বইটিতে আছে ৮০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 2nd Published, 2025।
করোনা ধীরলয়ে বিদায়ের পথে। মানুষের বন্দিদশা কেটে গেছে। মানুষের মুখোশ খুলে মানুষ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার এখনই সময়। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।
মানুষ পৃথিবীর সীমারেখা পেরিয়ে চাঁদে পা রেখেছে। মঙ্গলের মাটি ছুঁয়েছে। আকাশে গৃহ নির্মাণ করেছে। মৃত্তিকা ভেদ করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের তপ্ত শিলারাশি থেকে তুলে এনেছে ডাইনোসরের ফসিল, মণিমুক্তা হিরে জহরত। তা দিয়ে গড়ে উঠেছে গগনচুম্বী প্রাসাদ। পাতালে রচিত হয়েছে স্বর্ণখচিত ঘর-বসতি। ধরিত্রী আজ মানুষের লীলাক্ষেত্র। করতলে বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। ধরণির ধূলি হতে অসীম আকাশ অবধি বিস্তৃত হয়েছে মানুষের সাম্রাজ্য। প্রকৃতিকে পরাভূত করে মানুষ আজ ধরণির অধিপতি। অন্তহীন ক্ষমতার অধিকারী। এই দম্ভ করোনা বিচূর্ণ করে দিয়েছে।
সাপুড়িয়ার অঙ্গুলি নির্দেশে বিষধর ভুজঙ্গ যেমন ঝাঁপির অভ্যন্তরে শান্ত শিশুর মতো নিদ্রা যায়, প্রভুর নেত্র সংকেতে হিংস্র বাঘিনী যেমন বিনয়াবনত সারমেয়সদৃশ লোহার খাঁচায় বন্দি হয়, ঠিক তেমনি কপট আলখাল্লা, অকারণ আস্ফালন ও উদ্ধত লম্ফঝম্ফ আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে অতীব ক্ষুদ্র করোনার ভয়ে মানুষ গৃহ অভ্যন্তরে অন্তরিন হয়েছে।
অতি ক্ষুদ্র করোনার কাছে জাতের বড়াই নিষ্পেষিত হয়েছে। দলিত পতিত ছোট জাত বড় জাত, সাদা-কালা, ধূসর-তামাটে সব একাকার। পৃথিবীর তাবত মানবকুলের রক্তকণিকায় ঢুকে তন্ন তন্ন করে জাতের কোনো সন্ধান মেলেনি। সব একই রক্ত একই জাত একই ধর্ম।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।