‘গণদেবতা’ বইটির লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়; এটি একটি চিরায়ত উপন্যাস। প্রকাশনার দায়িত্বে অবসর প্রকাশনা সংস্থা। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ৩৫৬ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024 নিয়ে।
গণদেবতা কোনো বিশেষ ব্যক্তির ইতিবৃত্ত নয়। সমষ্টির সমগ্রতা নিয়েই তার সৌন্দর্য। জীবনের চলমান সমবায়ী বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন তারাশঙ্কর তাঁর উপন্যাসে। এই বাস্তবতাকে তুলে আনার প্রয়োজনে তিনি শরণাপন্ন হয়েছেন নির্দিষ্ট দেশ, কাল ও ব্যক্তির। ব্যক্তি ছাড়া তো সমষ্টি অকল্পনীয়। অবান্তর সমাজ ভাবনা।
ব্যক্তির মধ্যে সমষ্টির ব্যঞ্জনাকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই গণদেবতা উপন্যাসে আমরা ব্যক্তি মানুষের বিস্তৃত পরিধি লক্ষ করি। পেশা, চিন্তা ও স্বভাবের বৈচিত্র্যে এই মানুষগুলো প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র সত্তার অধিকারী হলেও গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ হিসেবে এরা শেষ পর্যন্ত একটি সম্মিলিত সুর মূর্ছনার সৃষ্টি করে, যে মূর্ছনাটি আবার কোনো ব্যক্তিবিশেষের চিন্তার প্রতিধ্বনি নয়, সমাজ চৈতন্যের।
বাংলা দেশের এক সাধারণ গ্রামের অসাধারণ। কাহিনি জটিল নয়। বলা যায় এই সরলতা চেনা জীবনের প্রাত্যহিকতার মধ্য থেকেই উদ্ভাসিত। কিন্তু চেনা জীবনের পরিচিত মধুর সরলতাই মানুষের লোভ, লালসা, হিংসাবৃত্তি এবং অন্যকে ঠকানো ও অন্যের উপর শোষণমূলক অন্যায্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জটিল ও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে।
কাল প্রবাহে ভেসে চলা মানুষ তখন অস্তিত্বের অনিবার্য সঙ্কটে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অভ্যস্ত পথ ছেড়ে ভিন্ন পথের সন্ধান করে।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।