ইসলামি সাহিত্য বিষয়ক বই হিসেবে ‘ফেরা (১ ও ২ একসাথে)’ লিখেছেন নাইলাহ আমাতুল্লাহ, সিহিন্তা শরীফা ও বিনতু আদিল। প্রকাশনার দায়িত্বে সমকালীন প্রকাশন। সব মিলিয়ে পেপারব্যাক বাঁধাই।
কিছু গল্প অলীক। কল্পনার জগতে তার জন্ম। পাঠককে অবাস্তব কিংবা পরাবাস্তব অভিজ্ঞতা দেয় সেসব গল্প। বাস্তব থেকে লেখকের কল্পনার জগতে বিবেক বদলি হয়।কিছু গল্প সত্যি। সত্য ঘটনাকে গুছিয়ে বলা হয় তাতে। শহুরে মানুষের কৃত্রিম কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবে আনা হয়।
এ বইটাতে আমরা দুটো গল্প শুনব। দুই বোনের গল্প। তাদের ফিরে আসার গল্প। আশা করি গল্পদুটো পড়ে আনন্দের পাশাপাশি আমরা কিছু ভাবনার খোরাক পাব।
জাগতিক নিয়মে, সব পাখি নীড়ে ফেরে। ফুল ফোটে, বৃষ্টি নামে এবং নদী তার আপন পথে বাঁক নেয়। কিন্তু, ফেরে না কেবল মানুষ। অহংকার আর অহমিকার দহনে তার বুকের ভেতরে জিইয়ে রাখে পাহাড়সম আগুন। সেই আগুনে ঝলসে যায় সে নিজে এবং ঝলসে দিতে চায় তার চারপাশ। মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ আর বেপরোয়া। সে তার অস্তিত্বের কার্যকারণ ডিঙিয়ে নিজেকে আমিত্বের আসনে দেখতে চায়। নিজের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতি চূড়ান্ত ভাবলেশহীন হয়ে সে নিজেকে অনন্ত-অসীমে কল্পনা করে বসে। ফলে সে বিচ্যুত হয়। পদস্খলন ঘটে তার। যুগে যুগে যাদের ধ্বংসের পদধ্বনি আমরা শুনতে পাই, তাদের সকলের যেন একই গল্প, একই চিত্রনাট্য—ঔদ্ধত্য, অহংকার আর অনাচার। এক মহাসত্যকে পাশ কাটিয়ে, নিজেকে নিয়ন্ত্রকের আসনে যখনই সে আসীন করতে গেছে, তখনই ধ্বংস অনিবার্য হয়ে নিপতিত হয়েছে তার ওপর।
তবু, কারও কারও গল্পটা অন্যরকম। তবু, কেউ কেউ ফিরে আসে। খুঁজে পায় পথ। খুঁজে নেয় অন্তিম অবসরের অনন্ত আবাসস্থল।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত ইসলামি জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।