‘একুশের কবিতা’ হাসান হাফিজ-এর লেখা কবিতা। অনন্যা থেকে প্রকাশিত। সব মিলিয়ে ১৯০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ১ম প্রকাশ, ২০১৮।
মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে। একুশ মানে মাথা নত না করা। হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন, বিনা স্বদেশী ভাষা পরে কি আশা... মনীষীদের এমন সব মহাজনী উক্তির মধ্যে নিহিত আছে মহান একুশের মাহাত্ম ও মাধুর্য। তাৎপর্য ও দিকনির্দেশনা। ভাষা আন্দোলনের রক্তাভ প্রতীক একুশ আমাদের অহঙ্কার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানাের দৃঢ় প্রত্যয় ও অনিঃশেষ প্রেরণা। একুশে আজ শুধু বাঙালির একক গর্বের কোনাে বিষয় নয়, বিশ্বসভ্যতা ও বিশ্বসংস্কৃতির ঐতিহ্য ও অম্লান সম্পদ। একুশে স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। একুশ নিয়ে বাংলা সাহিত্যের নানা শাখায় সৃজিত হয়েছে। যে সােনালি ফসলের সম্ভার, তা বিষয় বৈচিত্র্যে যেমন সমুজ্জ্বল, তেমনি এর শৈল্পিক নান্দনিকতাও তুলনারহিত। এই শস্যরাশির বিপুলতাও কম নয়। এত বছর পরেও এই মহান অনুষঙ্গ ফিকে ফ্যাকাশে হয়ে যায়নি, এখনাে একুশ নিয়ে রচনা, চর্চার, মননজমির চাষাবাদের ধারা চলমান। নদীর মতই বহতা সে স্রোত। আকাশের মত উদার, পর্বতের মত কঠিন। বাংলাদেশের কবিদের কলমে মূর্ত। জীবন্ত হয়ে উঠেছে ভাষাপ্রীতি, ভাষার জন্যে মমতা, অকুণ্ঠ নিখাদ ভালােবাসা। সেই দ্যুতির বর্ণচ্ছটা বাংলাসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এই গ্রন্থে প্রবীণ নবীন কবিদের শিল্পিত রচনাগুচ্ছে বিধৃত, প্রতিফলিত হয়েছে সেই বর্ণিল অধ্যায়ের সানন্দ শ্লাঘার স্মারক।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।