নির্যাতিত হয়েও উল্টো শাস্তি পাওয়া এক নারী যখন নিজেই বিচারের ভার হাতে তুলে নেয়, তখন কী ঘটে? সেলিনা হোসেনের উপন্যাস 'দ্বীপান্বিতা' সেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় পাঠককে। গল্পের কেন্দ্রে উন্নয়নকর্মী সুনীতি, যাকে লাঞ্ছিত করে তারই এক সহকর্মী আর এক মাঝি, অথচ গ্রামের সালিশ অপরাধীদের নয়, দোররার শাস্তি দেয় সুনীতিকেই।
জোর করে বিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হলেও সে তা মেনে নেয় না। সহকর্মী চন্দ্রভানুর সহায়তায় শুরু হয় তার পাল্টা আঘাত, যার আগুন গিয়ে পৌঁছায় ফতোয়াবাজ মোড়লের ঘর পর্যন্ত। এরপর অন্তঃসত্ত্বা সুনীতি পথে নামে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে, আর তার পেছনে জড়ো হয় আরও মানুষ। এই যাত্রার মানে কী, তা জানতে পাঠককে শেষ পাতা পর্যন্ত যেতে হয়।
ফতোয়া, নারী নির্যাতন আর প্রতিবাদের প্রশ্নে সাহসী এই সমকালীন উপন্যাস সেলিনা হোসেনের পাঠকদের পাশাপাশি নারীর অধিকার নিয়ে ভাবেন এমন সবার পড়া দরকার।