ভূমিকা লেখক খালেদ হোসাইনির জন্য আফগানিস্তানে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার "দ্য কাইট রানার" উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। ইংরেজিতে লিখিত এ উপন্যাস প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কের বার্কলে পাবলিশিং গ্রুপ। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্বব্যাপী বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। আবেল আয়েশে বইটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। "এখানে এমন একটি কাহিনী পরিবেশিত হয়েছে যা তোলা যায় না, যা বছরের পর বছর আপনার মন জুড়ে থাকবে। সাহিত্য ও জীবনের সকল প্রধান বিষয়গুলি এই অসাধারণ উপন্যাসটির বুনোটের মধ্যে ধরা পড়েছে। প্রেম, মর্যাদা, অপরাধবোধ এবং তা থেকে মুক্তি।" বিংশ শতাব্দীর আফগানিস্তানের একটি চমৎকার চিত্র উঠে এসেছে বইটিতে। সেই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ছবিও উঠে এসেছে। এ উপন্যাসে পরিবেশিত নানা চরিত্রের মধ্যে নায়ক আমির, তার বন্ধু হাসান, যে তাদের গৃহভৃত্য আলীর ঘরে লালিত-পালিত তার পিতার অবৈধ সন্তান, আমীরের পিতা যিনি “বাবা” নামে পরিচিত, আমিরের পিতার এবং তার নিজের বন্ধু রহিম খান, প্রভুভক্ত সেবক আলী, এবং উপন্যাসের শেষার্ধে আমীরের স্ত্রী সুরাইয়াসহ আরো কতিপয় চরিত্রের পরিবশেনা মুগ্ধকর। হাসান এবং আমীরের অটুট বন্ধত্বের পাশাপাশি রাজনীতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার প্রথার বিষয়ও এ উপন্যাসে আকর্ষণীয় এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে পরিবেশিত হয়েছে। জনৈক সমালোচক বলেছেন, “এ উপন্যাস পড়তে শুরু করলে হাত থেকে নামানো যায় না। এ উপন্যাস একটি সংস্কৃতিকে জীবন্ত করে তুলে ধরেছে। এ উপন্যাস একই সঙ্গে নাটকীয় এবং মহাকাব্যিক। এখানে আছে আফগান, পাকিস্তানি, ভারতীয় ও মার্কিন চরিত্রাবলী। সব চরিত্র পাঠকের চিত্তে গভীরভাবে রেখাপাত করে। ঘটনার পটভূমি আফগানিস্তানের কাবুলে ও জালালাবাদে, পাকিস্তানের পেশোয়ার ও ইসলামাবাদে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এ উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আফগানিস্তানে রুশ সেনাবাহিনী ও তালেবানদের নৃশংসতা, নির্যাতন, নারী ও বালক ধর্ষণের রোমহর্ষক চিত্র। একদিকে রুশ সৈনিকদের ব্যভিচারিতা ও নারী ধর্ষণ এবং অন্যদিকে তালেবানদের বালক ধর্ষণ ও ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত নর-নারীকে পাথর ছুঁড়ে হত্যার মতো নৃশংসতার চিত্র বর্ণিত হয়েছে বাস্তবসম্মতভাবে। অনুবাদক