বঙ্গশ্রীতে ছাপা হয়েছিল বড়গল্প ‘একটি দিন’। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাত্যাগী এক তরুণের লেখা। সদ্যযুবা সেই লেখক পরবর্তীতে আখ্যানটিকে রূপান্তরিত করেন ধারাবাহিক এক উপন্যাসে। ১৯৩৫ সালে যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। অনন্য এক জীবনশিল্পী। বি¯ §য়কর প্রতিভা নিয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন বাংলাসাহিত্যে। ‘দিবারাত্রির কাব্য’ তাঁরই রচিত প্রথম উপন্যাস। বহুমাত্রিক কারণেই অসামান্য। মানিক নিজেই লিখেছেন, “দিবারাত্রির কাব্য পড়তে বসে যদি কখনো মনে হয়, বইখানা খাপছাড়া, অস্বাভাবিকÑ তখন মনে রাখতে হবে এটি গল্পও নয়, উপন্যাসও নয়, রূপক কাহিনী। রূপকের এ একটা নতুন রূপ। একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে বাস্তবজগতের সঙ্গে সম্পর্ক দিয়ে সীমাবদ্ধ করে নিলে মানুষের কতকগুলো অনুভূতি যা দাঁড়ায়, সেইগুলোকেই মানুষের রূপ দেওয়া হয়েছে। চরিত্রগুলো কেউ মানুষ নয়, মানুষের চৎড়লবপঃরড়হÑ মানুষের এক এক টুকরো মানসিক অংশ।” নিরীক্ষাধর্মী তিনটি পর্বে বিভক্ত উপন্যাসটি। ‘দিনের কবিতা’, ‘রাতের কবিতা’ এবং ‘দিবারাত্রির কাব্য’। কাহিনি ক্রমান্বয়ে অগ্রসর এবং বিকশিত হয় প্রতিটি চরিত্রের নিরন্তর জটিল মানসিকতা এবং তার জটিলতর প্রকাশের অপরূপ বর্ণনায়।