‘চোস্ত পায়জামা’ সিরাজুল ইসলাম-এর লেখা অনুবাদ গল্প। প্রকাশনার দায়িত্বে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। সব মিলিয়ে ১১২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024।
মধ্যবর্তী বিরতি দিয়ে হলেও কথাসাহিত্যিক সিরাজুল ইসলামের সাহিত্যযাত্রার বয়স প্রায় পাঁচ দশক। তিনি জীবনবাদী লেখক,বাস্তবতাকে নিরাসক্তভাবে প্রকাশ করেন। চোস্ত পায়জামা-র গল্পগুলোও তাঁর উপস্থাপনভঙ্গির অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রকাশিত। গ্রন্থভুক্ত দশটি গল্পের চরিত্র বিন্যাসে সিরাজুল ইসলাম মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। গল্পগুলো গতানুগতিক নয় যে এক বসাতেই পড়ে শেষ করা যায়। বরং গল্পের কাহিনি ও চরিত্র পাঠকের গভীর মনোযোগ দাবি করে। গল্পে ইতিহাস ও সময়ের বাস্তবতা নির্মাণে লেখক যেন ইতিহাসবিদ কিংবা প্রত্নতত্ত্ববিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বিশেষ করে পুরোনো ঢাকার নিজস্ব সংস্কৃতি লেখক নিবিড় মমতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। মানবসম্পর্কের জটিল ও রহস্যময় অঞ্চল তাঁর গল্পে বিশেষ অনুসন্ধানের বিষয়। কোনো কোনো গল্পে লেখকের নিজস্ব জীবনের ছাপ বিদ্যমান। তাঁর গল্প নিরেট আবেগসর্বস্ব শিল্প নয়। গল্পে মানুষের জীবন ও প্রাত্যহিকতার ভেতর যে বহুমুখী সংকট লীন হয়ে থাকে,তিনি সেসবের প্রতি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। জীবনবোধে তাড়িত মৌলিক গল্প পাঠে আগ্রহী পাঠকের কাছে চোস্ত পায়জামা আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে সক্ষম।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।