বিধবা বিনোদিনীর আগমনে মহেন্দ্র আর আশালতার সংসারে যে ঝড় ওঠে, আর তাতে জড়িয়ে পড়ে বিহারীও, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ সেই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের উপন্যাস। কামনা, ঈর্ষা আর সামাজিক সীমারেখার ভেতরে চরিত্রগুলোর অন্তর্জগৎ এখানে খুঁটিয়ে দেখানো হয়েছে, ঘটনার বিবরণের চেয়ে মনের বিশ্লেষণেই লেখকের মনোযোগ বেশি।
গল্প হিসেবে শুরু হওয়া ভাবনাটি পরে বিস্তৃত হয়ে উপন্যাসের রূপ নেয়, আর বই আকারে আসে ১৯০৩ সালে। মজার ব্যাপার, প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথ নিজেই এর সমাপ্তি নিয়ে অনুতাপের কথা অকপটে লিখেছিলেন, যা উপন্যাসটিকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়িয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের সূচনা বুঝতে চাইলে ২৪৮ পৃষ্ঠার এই বই অবশ্যপাঠ্য, আর জটিল সম্পর্কের গল্প যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের জন্যও।