চিত্রা রবীন্দ্র-প্রতিভার পরিণত পর্বের রচনা। সোনার তরী রচনাকালেই কবির এই পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বলা হয় সোনার তরীতে এসে তাঁর কবি-প্রতিভার বাঁক নিতে শুরু করে। আর চিত্রায় এসে প্রতিভার ধারা নতুন একটি স্রোতস্বিনীর রূপলাভ করে। চিত্রা কাব্যটি রচনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ববঙ্গের স্মৃতি জড়িত। কবিতা রচনার স্থানের ক্ষেত্রে পূর্ববঙ্গ একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই কাব্যের কবিতাগুলো বাংলা ১২৯৯ থেকে ১৩০২ সনের মধ্যে রচিত। চিত্রা কাব্যের বেশিরভাগ কবিতাই কলকাতার জোড়াসাঁকোর বাড়িতে বসে লেখা। অন্য কবিতাগুলো তিনি রাজশাহী, পতিসর, শিলাইদহ এবং পদ্মাবোটে বসে রচনা করেন। জোড়াসাঁকোতে বসে কবিতা রচনা করলেও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতিনির্ভরতা তাঁর রচনায় স্পষ্ট। ‘চিত্রা’ কাব্যের অনেক কবিতার মধ্যে তাই পূর্ববঙ্গের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতালব্ধ দার্শনিক জ্ঞানের প্রভাব পড়েছে।