লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘ছেলেবেলা’ পাঠকের সামনে এসেছে কাব্য সমালোচনা বিষয়ক বই হিসেবে। অনুভূতি প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ৫৬ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Edition 2025।
বয়স তখন ছিল কাঁচা, হালকা দেহখানা ছিল পাখির মতো, শুধু ছিল না তার ডানা।
উড়ত পাশের ছাদের থেকে পায়রাগুলোর ঝাঁক,
বারান্দাটার রেলিঙ-'পরে ডাকত এসে কাক।
ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ও পার থেকে তপসিমাছের কুড়িখানা গামছা দিয়ে ঢেকে। বেহালাটা হেলিয়ে কাঁধে ছাঁদের 'পরে দাদা,
সন্ধ্যাতারার সুরে যেন সুর হত তাঁর সাধা। জুটেছি বউদিদির কাছে ইংরেজি পাঠ ছেড়ে,
মুখখানিতে-ঘের-দেওয়া তাঁর শাড়িটি লালপেড়ে। চুরি করে চাবির গোছা লুকিয়ে ফুলের টবে এহের রাগে রাগিয়ে দিতেম নানান উপদ্রবে।
কিশোরী চাটুজ্যে হঠাৎ জুটত সন্ধ্যা হলে, বাঁ হাতে তার খেলো হুঁকো, চাদর কাঁধে ঝোলে।
দ্রুতলয়ে আউড়ে যেত লবকুশের ছড়া, থাকত আমার খাতা লেখা, পড়ে থাকত পড়া।
মনে মনে ইচ্ছে হত যদিই কোনো হলে ভরতি হওয়া সহজ হত এই পাঁচালির দলে, ভাবনা মাথায় চাপাত নাকো ক্লাসে ওঠার দায়ে,
গান শুনিয়ে চলে যেতুম নতুন নতুন গাঁয়ে। স্কুলের ছুটি হয়ে গেলে বাড়ির কাছে এসে হঠাৎ দেখি, মেঘ নেমেছে ছাদের কাছে ঘেঁষে। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, রাজা ভাসে জলে, ঐরাবতের গুঁড় দেখা দেয় জল-ঢালা সব দলে। অন্ধকারে শোনা যেত রিমঝিমিনি ধারা,
রাজপুত্র তেপান্তরে কোথা সে পথহারা।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।