রোজারিও থেকে আর্জেন্তিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারস-এ চলে এসেছিল গুয়েভারা পরিবার। আর্নেস্তো ডাক্তারি পড়ছিলেন। এইসময় বয়সে বছর ছয়েকের বড় আলবার্তো গ্রানাদোসের সঙ্গে এই ডাক্তারি ছাত্রটি রওনা হন এক দীর্ঘ সফরে। পুরনো একটা মোটরসাইকেকলে চড়ে দুই স্বপ্নসন্ধানী। সালটা ১৯৫১, আর্নেস্তো তেইশের যুবক। আর্জেন্তিনা থেকে চিলি। চিলির নানান জায়গা। দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার ধকলে অকেজো হয়ে গেছে পুরনো মোটরসাইকেল। তাকে চিলির মাটিতেই বিসর্জন দিয়ে, কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও চলতি কোনও গাড়িতে উঠে, দুই বন্ধু পৌঁছেছেন পেরুতে। পেরুর দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, প্রাচীন ইনকা সভ্যতার চিহ্ন, কেশুয়া আর আইমারা ইন্ডিয়ানদের বসতি, আমাজনের তীর। দুই বন্ধু দেখেছেন। পথে অসুস্থ হয়েছেন আর্নেস্তো, আক্রান্ত হয়েছেন জন্মগত হাঁপানির টানে। আর ডায়েরি লিখেছেন। জীবনশেষের আগের দিন পর্যন্ত ডায়েরি লিখেছেন আর্নেস্তো- তখন তিনি চে। পেরু থেকে ভেলায় চড়ে কলম্বিয়া। সেখান থেকে ভেনিজুয়েলা। সাত মাস পথে পথে, দেশে দেশে ঘোরার পর আর্জেন্তিনায় ফিরলেন আর্নেস্তো। ১৯৫৩ সালে ডাক্তারি পাস করলেন শল্যচিকিৎসক এবং ত্বকবিজ্ঞঅনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে।