‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর লেখা চিরায়ত উপন্যাস। প্রকাশনার দায়িত্বে প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ১২০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2025 নিয়ে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চতুরঙ্গ’ একটি দার্শনিক-সাহিত্যকেন্দ্রিক উপন্যাস, বাংলা সাহিত্যের এক অসামান্য সৃষ্টি। যেখানে মানুষের মনের গভীর টানাপোড়েন, বিশ্বাস ও অবিশ্বাস, প্রেম ও দুঃখ, যুক্তি ও ভক্তির দ্বন্দ্ব একসঙ্গে মিশে আছে। নামের মতোই চারটি চরিত্র―শচীশ, দামিনী, জগমোহন ও শ্রীবিলাস―এখানে শুধু মানুষ নয়, একেকটি জীবনদর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের চারজনের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও অনুভব মিলেই গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসের দার্শনিক কাঠামো।
শচীশের ভক্তিময় মন, দামিনীর প্রেমময় আবেগ, জগমোহনের দৃঢ় যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আর শ্রীবিলাসের মানবিক আত্মকথন―সব মিলিয়ে চতুরঙ্গ পাঠককে এক অন্তর্মুখী ভ্রমণের পথে নিয়ে যায়। এখানে কেবল গল্পের ঘটনা নয়, আছে প্রশ্নের পর প্রশ্ন, যা মানুষকে তার নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। প্রেম, বিশ্বাস, ভক্তি, সন্দেহ, বিদ্রোহ ও মানবিক টানাপোড়েন―সবকিছু মিলেমিশে উপন্যাসটি এক গভীর দর্শনধর্মী আলোচনায় রূপ নিয়েছে।
এই কাহিনিতে রবীন্দ্রনাথ শুধু গল্প বলেননি, বরং মানুষের অন্তর্গত সত্যের অনুসন্ধান করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন ধর্মের অন্ধ অনুশাসন, বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তি, নিঃস্বার্থ ভক্তি ও প্রেম―এসবই মানবজীবনের একেকটি দিক। কিন্তু তাদের সংঘাত ও সামঞ্জস্যের ভেতর দিয়েই মানুষ তার প্রকৃত সত্তাকে চিনে নেয়। চতুরঙ্গ পড়তে পড়তে আমরা বুঝতে পারি, মানুষের জীবন একরৈখিক নয়―এটি বহুমাত্রিক, বহুস্বরিক।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।