আকারে ছোট, কিন্তু ভাবনায় গভীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চতুরঙ্গ’ বাংলা উপন্যাসে গঠনের দিক থেকে এক অভিনব পরীক্ষা। প্রাচীন যুদ্ধের চতুরঙ্গ বাহিনীর আদলে চারটি অংশ ঘিরে রয়েছে চার চরিত্র: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী ও শ্রীবিলাস। কথক শ্রীবিলাসের চোখে আমরা দেখি মানবসেবায় ব্রতী জ্যাঠামশাই জগমোহনকে, গুরু লীলানন্দ স্বামীর শিষ্য হয়ে ওঠা শচীশকে, আর জীবনের প্রতি তীব্র টান নিয়ে আসা দামিনীকে।
ব্যক্তিমনের জটিল হিসাব, রেনেসাঁ-পরবর্তী বাঙালির সংকট আর আধ্যাত্মিক সংশয় এই উপন্যাসের কেন্দ্রে। ইঙ্গিত, প্রতীক আর মিতব্যয়ী ভাষায় রবীন্দ্রনাথ শচীশের রূপান্তর আর অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৯১৪ সালে ‘সবুজপত্র’-এ অংশ হিসেবে বেরিয়ে ১৯১৬ সালে বই আকারে প্রকাশিত ৮০ পৃষ্ঠার এই উপন্যাস মনোযোগী রবীন্দ্র-পাঠকের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।