বঙ্কিমচন্দ্র যে অদ্ভুত শক্তির সহিত কল্পনা ও তথ্য মিশাইয়া তাঁহার ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করিয়াছিলেন, সে শক্তি কোনো পরবর্তী লেখক উত্তরাধিকার-সূত্রে প্রাপ্ত হন নাই। যে মন্ত্রবলে তিনি অতীতের সিংহদ্বার খুলিয়া বিস্মৃত ইতিহাসকে পুনর্জীবিত করিয়াছিলেন সে মন্ত্ররহস্য তাঁহার সহিতই লোপ পাইয়াছে। ঐতিহাসিক উপন্যাসের ধারা বঙ্গসাহিত্যে প্রায় সম্পূর্ণরূপেই লুপ্ত হইয়া গিয়াছে। বঙ্কিমের অন্ধ ও অক্ষম অনুকারিগণ তাঁহার প্রণালীর রহস্যটি মোটেই ধরিতে পারেন নাই। ইতিহাস তাঁহাদের হাতে প্রাণহীন হইয়া উহার গৌরবময় উদ্দীপনা হারাইয়াছে রোমান্স আতিশয্যদুষ্ট ও কল্পনাক্ষতি হইয়া একেবারে অপ্রাকৃতের চরম সীমায় পিয়া দাঁড়াইয়াছে। বঙ্কিম যেরূপ সুকৌশলে ইতিহাস, ব্রোমান্স ও বাস্তব-জীবনকে এক সূত্রে গাঁথিয়া তুলিয়াছিলেন অদ্ভুত প্রতিভাবলে তাহাদের একটা সুন্দর