তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ — চিরায়ত উপন্যাস। মাটিগন্ধা-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ১০৯ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2018।
দেবগ্রামের পথে পাশের বড় গ্রাম হইতে গাজনের সঙ আসিয়া হাজির হইয়াছে। এর কজন ঢাকী বড় একখানা ঢাক নাচিয়া নাচিয়া বাজাইতেছে। তাহার সঙ্গে কাঁসি ও শিঙা। দলটাকে অনেক দূরে দেখা যাইতেছে। দেবগ্রামে গাজন নাই। নবগ্রামের গাজনও এ গ্রামে আসে না। এবার ব্যাপারটা নতুন।
দক্ষিণ পাড়ার মণ্ডলবাড়ি হইতে বাহির দরজায় বধু দুটি ছুটিয়া আসিয়া দাঁড়াইল। গ্রামের সবচেয়ে সমৃদ্ধ মণ্ডলবাড়ি। মাটির ঘর, টিনের চাল, পাকা মেঝে। বারান্দায় সুন্দর-গড়নের কাঠের খুঁটি। সেতাব ও মহাতাপ মণ্ডলের বাড়ি। বধূ দুইটি দুই ভায়ের স্ত্রী কাদম্বিনী ও মানদা। কাদম্বিনী ঈষৎ দীর্ঘাঙ্গী, স্ত্রী এবং শ্যামবর্ণে চমৎকার লাবণ্যময়ী মেয়ে। মানদা মাথায় খাটো, একটু স্থূলাঙ্গী। কাদম্বিনী নিঃসন্তান, বয়স চব্বিশ-পঁচিশ, মানদার বয়স সতের আঠের-একটি সন্তানের জননী মানদা।
ওদিকে গাজনের সঙের দল অন্য একটা রাস্তায় ভাঙিয়া ঢুকিয়া যাইতে শুরু করিল। ঢাকের বাজনার শব্দ বাঁকের আড়ালে পড়িয়া কম হইয়া আসিল।
মানদা বলিল, মরণ! ও-রাস্তায় ঢুকে গেল যে মড়ার দল। কাদম্বিনী গবেষণা করিয়া বলিল, বোধহয় ও পাড়ায় মোটা মোড়লের বাড়ি গেল।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।