‘বনলতা’ বইটির লেখক আফতাব হোসেন; এটি একটি সমকালীন উপন্যাস। বইটি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য। বইটিতে আছে ১৬৫ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2018।
কখন স্যার বেরিয়ে যান টের পাই না। আমি ঠায় বসে থাকি। ছেলেরা পরের ক্লাসের জন্য ছােটে। কেন জানি আজ আর আমার ক্লাসে যাবার কোনাে তাড়া থাকে না। সব শেষে আমি বের হই । শূন্য বুকে এলােমেলাে হাঁটি করিডােরে। চমকে পিছন ফিরি । দেখি, নীলা দাঁড়িয়ে করিডােরে। নীরবে তাকাই ওর দিকে। ডাগর কালাে চোখ মেলে অভিমানী সুরে বলে, এই এক সপ্তাহ আসেননি কেন? আমি যেন হঠাৎ জীবনানন্দ দাশ হয়ে যাই। সামনে দাড়িয়ে শ্রাবস্তির কারুকাজ করা মুখের বনলতা সেন। যেন বলছে; "এতদিন কোথায় ছিলেন? মতাে চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।" বিএল কলেজের করিডােরে দাঁড়িয়ে, সতেরাে বছরের এক কিশাের তারই এক সহপাঠিনীর মুখে দেখেছিল শ্রাবস্তীর কারু কাজ। তার ডাগর কালাে চোখে দেখেছিল ছেলেবেলায় গ্রামের বাড়িতে দেখা কাজলদিঘি। যে দিঘিতে সাঁতার না জানা বালকের মতাে সে শুধুই তলিয়ে যেত। কল্পনায় সেই কিশােরীকে কখনাে সে ভাবত পুরুরবার প্রেমে পাগল উর্বশী, কখনাে বিশ্বামিত্রের ধ্যান ভাঙানাে মেনকা কিংবা বুকে ঝড় তােলা ছন্দে চলা মন্দাকিনী, কখনাে বা পাখির নীড়ের মতাে চোখের বনলতা সেন। ভৈরবের তীরে বসে সেই দুই কিশাের কিশােরী রচেছিল এক অসম্ভব প্রেমের মহাকাব্য। তীরে পৌছুবে না জেনেও দুর্বল হাতে সেই নদীতে বেয়েছিল এক মায়াবী প্রেমের পানসিনাও। বনলতা এমনই দুই কিশাের-কিশােরীর কষ্ট মধুর প্রেমকাহিনি ।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।