তিনি কবি, রাজনীতির কবি। তিনি শিল্পী, রাজনীতির শিল্পী। বাঙালির হাজার বছরের আকাক্সক্ষার ধন মুক্তি ও স্বাধীনতার এই মহান শিল্পী বহুদিন ধরে লিখে যাচ্ছিলেন একটি মুক্তিগাঁথা, স্বাধীনতার কবিতা; এঁকে যাচ্ছিলেন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ছবি। কোন অতীতে, কত কবি, শিল্পী এই কবিতার সূত্রধর হয়ে ইতিহাসের বিচিত্র বাঁকে-মোড়ে বিস্ময়কর অবদান রেখে রেখে বিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে পৌঁছে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার মন্ত্র তার কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। অসমাপ্ত সেই কবিতার মহাকাব্যিক পরিসমাপ্তির দায় বর্তায় মহান এক কবির হাতে, অসধারণ এক রাজনৈতিক শিল্পীর হাতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ আঙালি। পরিসমাপ্তির বিপুল আয়োজন শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে। বায়ান্নে এসে এদেশের মানুষ স্পষ্টতই তার অস্তিত্বের মধ্যে টের পায় মুক্তির আস্বাদ। হাসান হাফিজুর রহমান “অমর একুশে” কবিতায় জন্মভূমি সম্পর্কে লিখেছেন, “তোমার প্রাণের গভীর জলে করে এবার এলাম;” কেননা, একুশের সেই দিনে আমরা যাদের হারিয়েছি তাদের আত্মত্যাগের মহান প্রেরণা ছড়িয়ে গিয়েছিল দেশময়। আমাদের সামনে খুলে গিয়েছিল স্বাধীনতার দরজা-জানালাগুলো। “কৃষাণ যেমন বর্ষার পলিসিক্ত মাঠে রোয়া ধানের চারাগুলো/ রেখে আসে সোনালী শস্যের জন্মের আকাক্সক্ষায়” তেমনি সেই আত্মাহুতির মধ্যে নিহিত ছিল অফুরন্ত সৃষ্টির প্রেরণা। আর সেই সৃষ্টির পথে সমস্ত জাতিকে উদ্বুদ্ধ করে রেখেছিলেন যে রাজনীতির মহান শিল্পী তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।