বইটির ভূমিকাঃ ‘বলাকা' (১৯১৬) রবীন্দ্রনাথের প্রৌঢ় জীবনের সৃষ্টি। এ সময়ের অন্য দুখানি কাব্য হলাে ‘পূরবী (১৯২৫) এবং মহুয়া' (১৯২৯)। এই তিনখানি কাব্য প্রৌঢ় জীবনের প্রসন্ন স্নিগ্ধতার মধ্যে রচিত হলেও এর প্রত্যেকটিতে যে জাগ্রত জীবনবােধ, বুদ্ধির যে বিস্ময়কর দীপ্তি এবং বিশ্ব সম্বন্ধে যে বিশালতার ইঙ্গিত রয়েছে, তা তাঁর প্রৌঢ় জীবনের একপ্রকার বিস্ময়কর ব্যাপার বলেই মনে হবে। তার আগে গীতাঞ্জলি’র স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল অধ্যাত্মমুখী। কবি জীবনের সাধারণ রীতি ও প্রবণতা অনুসারে এখানেই ছেদরেখা পড়তে পারে। কিন্তু সহসা ঝড়ের বেগে কবির লেখনী থেকে বেরিয়ে এলাে 'বলাকা'।