‘বিশ্বনবী’ গোলাম মোস্তফা (বাঙালি কবি)-এর লেখা বই। সদর প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024 নিয়ে।
বিশ্বনবীর অনেক স্থানে কোরআন শরীফের আয়াত উদ্ধৃত করা হইয়াছে। মূল আরবি আয়াত না দিয়া শুধু বাংলা তরজমা দিয়াছি। সেই সব তরজমার কোনো কোনো স্থানে আল্লাহ সম্বন্ধে 'আমরা' (বহুবচন) ব্যবহৃত হইয়াছে।
"এবং যে কেহ এই দুনিয়ায় পুরস্কার চাহে, তাহাকেও আমরা তাহাই দিব এবং যে কেহই পরকালের পুরস্কার চাহে, তাহাকেও আমরা তাহাই দিই। আমরা কৃতজ্ঞদিগকে পুরস্কৃত করিব। এখানে 'আল্লাহ্'র পরিবর্তে 'আমরা' সর্বনামের ব্যবহার দেখিয়া অনেক পাঠকের মনেই প্রশ্ন
তাঁহারা ভাবেন আল্লাহ্ এক অদ্বিতীয় ও লা-শরীক; কাজেই তাঁহার সম্বন্ধে 'আমরা' (বহুবচন) ব্যবহার করা যাইতে পারে না। তাই অনেকের ধারণা ইহা তরজমার ভুল।
তরজমায় কোনো ভুল হয় নাই। তরজমা ঠিকই আছে। অন্য এক গূঢ় কারণে 'আমি' স্থলে 'আমর' লিখিতে হইয়াছে। আরবী ভাষায় সম্মানীয় ব্যক্তিদিগের বেলায় বহুবচন ব্যবহৃত হয়।
ইহাকে সম্মানার্থে 'বহুবচন' বলে। অন্যান্য ভাষাতেও এইরূপ বাক-রীতি প্রচলিত আছে।
রাজকীয় ঘোষণায় সম্রাট, সম্রাজ্ঞী বা রাষ্ট্রপতি উত্তম পুরুষের বহুবচন (আমরা) ব্যবহার করেন; দৃষ্টান্তস্বরূপ মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে (Queen's Proclamation) উল্লেখ করা যাইতে
সেখানে We ব্যবহৃত হইয়াছে। বলা বাহুল্য, এই রীতি কোরআন শরীফের নিজস্ব। আল্লাহ্ নিজেই এই বাচনভঙ্গি শিক্ষা দিয়াছেন; 'আমি' না বলিয়া 'আমরা' বলিয়াছেন।
তরজমায় ভুল হইয়াছে পাঠক যেন সেইরূপ মনে না করেন।
বইপ্রেমী পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।