পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতী জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করলেও বিভূতিভূষণের বিপিনের সংসার গৌণ কাজ নয়। যুগে যুগে মহামানবেরা নানা রকম আইডিয়া বা আদর্শ প্রচার করলেও মানুষের জীবন কোনো আইডিয়া বা আদর্শ প্রতিপালন ও প্রতিষ্ঠার ফ্যাক্টরি নয়। জীবন বহমান নদীর মতো। এখানে দুঃখ আছে, দৈন্য আছে, আছে পতন এবং উত্থান। এক জীবনে মানুষ ভুল করে আবার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে ঘুরেও দাঁড়ায়। বিচিত্র মানুষের শরীর ও মনের নানা মাত্রিক রসায়ন। শরীরের সংবেদনশীলতায় সে যেমন কাতর হয় তেমনি কার্যকারণ সূত্রের তোয়াক্কা না করেই পা বাড়ায় প্রথাগত পথের বাইরে। আপাতদৃষ্টিতে এই বেয়াড়াপনার কারণ বোঝা না গেলেও ভেতরে এরও থাকে এক অপ্রতিরোধ্য কারণ। সে কারণ প্রেম। কিন্তু মানুষ কেন একজন অন্যজনের প্রেমে পড়ে তা বলা দুরূহ। বলা যেতে পারে ভালো লাগে বলে। কিন্তু কেন ভালো লাগে! তার উত্তর দুরূহতর। বিপিনের সংসার উপন্যাসে সমাজ আছে, পরিবার আছে, দারিদ্র্য আছে, দারিদ্র্য জয়ের সংগ্রাম আছে, কিন্তু সবার উপরে আছে প্রেম। বিপিন, মানী, শান্তি, কামিনী গোয়ালিনী, বীণা, পটল, বিশ্বেশ্বর, মতি প্রেম দিয়েই সবাইকে জয় করেছে। শাশ্বত এই জীবন। প্রেমই শাশ্বত জীবনে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। বিপিনের সংসার উপন্যাসে আমরা পাই শাশ্বত জীবনের সহজ পাঠ।