শিরক, বিদয়াত ও কুসংস্কার বিষয়ক বই হিসেবে ‘বিদআত - ইবাদাত (৩য় খণ্ড)’ লিখেছেন ড. আহমদ আলী। বাংলাদেশ ইসলামিক ল রিসার্চ এন্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ৪৮৬ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 4th edition 2020 নিয়ে।
সাহাবি আবু দারদা রাযি. বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর যুগে দীনের যে অবস্থায় ছিলাম, তন্মধ্যে কেবল কিবলা ছাড়া আজ কিছুই আমি চিনতে পারছি না।’
তাঁর এই কথার ওপর মন্তব্য করেন,
‘কী আশ্চর্য কথা! আজ যদি তিনি আমাদের দেখতে পেতেন, তবে তিনি কীরূপ মন্তব্য করতেন! অথচ বর্তমানে আমাদের মধ্যে শরীয়তের চর্চা বলতে শুধু আনুষ্ঠানিকতা-টুকুই আছে।’ [সাইদুল খতির, পৃঃ ১০৭]
সাহাবী আবু দারদা রাযি.-এর কথাটি বলার পর হাজার বছর পেরিয়ে গেছে। নববি যুগ থেকে যতই ব্যবধান বেড়েছে, ততই উম্মত দ্বীন থেকে দূরে সরতে শুরু করেছে। দ্বীনের নাম নব্য আবিষ্কৃত রীতিনীতির আবির্ভাব ঘটেছে। নিত্যনতুন পথ-পদ্ধতি, আমল-আনুষ্ঠানিকতা এসেছে। জানা নেই, আবু দারদা এবং ইবনুল-জাওযী উভয়ই যদি আজ আমাদের দেখতেন, তাহলে কী মন্তব্য করতেন। আমাদের সালাফগণ বিদআত কিংবা দ্বীনের নামে নব আবিষ্কৃত রীতি নীতিকে ততটাই ঘৃণা করতেন, যতটা করতেন শিরক কুফরকে। কারণ, অতীতের নবি-রাসূলের দ্বীন বিকৃত হবার পেছনে এই বিদআতই দায়ী। বিদআত থেকেই প্রকাশ পায় কুফর-শিরকের মতো ভয়াবহ আকীদা, যা ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী করে।
আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের ‘এহইয়াউস সুনান’ বইয়ের পর সম্ভবত এই বইটি আমাদের দেখা বিদআত নিয়ে বিস্তর আলোচনা সমৃদ্ধ বই। বরং বলা যায় এহইয়াউস সুনানের চেয়েও এখানে বিদআতের প্রকৃত, প্রকরণ, পরিণাম চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ইসলামি জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।