‘বিবাহার্থী’ বইটির লেখক ডা. নাজমুল হাসান; এটি একটি সমকালীন উপন্যাস। প্রকাশক অন্বেষা প্রকাশন।
আমাদের সমাজ-সংসারের মূল্যবোধ মূলত ধর্মীয় সংস্কৃতির ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো। প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস এবং আচার-আচরণই আমাদের জীবন-যাত্রার সামাজিক মান নিয়ন্ত্রক। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিবেচনা করলে ধর্ম প্রকৃতপক্ষে কতটা নারী স্বাধীনতা দিয়েছে সেটি একটি বিতর্কিত বিষয়। ধর্মবাদীরা বলেন, ধর্ম নারী স্বাধীনতা দিয়েছে, উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষেরা যৌক্তিভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, ধর্ম প্রকৃতপক্ষে নারী স্বাধীনতা দেয়নি বরং স্থায়ীভাবে নারীকে শৃঙ্খলিত করেছে।
বিয়ে ব্যবস্থাপনা প্রচলনের যে ইতিহাস জানা গেছে তাতে দেখা যায়, এ ব্যবস্থাপনার মূল নিয়ন্ত্রকও প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি। হাল আমলে বিয়ে ব্যবস্থাপনার সামান্য কিছু বিষয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রীত হলেও এখনও এর সিংহ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে প্রচলিত ধর্মীয় সংস্কৃতি। অতীত কাল থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত প্রচলিত-ধর্ম নিয়ন্ত্রীত এই বিবাহ ব্যবস্থাপনা প্রকৃতপক্ষে কতটুকু নারী অধিকার সংরক্ষণ করতে পেরেছে সেটিও একটি বিতর্কিত বিষয়। এখানেও ধর্মবাদী ও উদারবাদীদের যুক্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক।
বিবাহার্থী উপন্যাসটি মূলত একটি প্রবন্ধ-উপন্যাস। সমাজে বসবাসরত বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষের বিবাহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আসলে কতটুকু নারী অধিকার সংরক্ষিত হচ্ছে, বাস্তবতার নিরিখে সেটি তুলে ধরাই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।