প্রাক্তন নাতাশা যখন বুকস্টোরের ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত তখন তার পরিচয় হলো সুদর্শন ডক্টর রাহেলের সাথে। পরিচয় থেকে প্রেম। সম্পর্ক যখন গভীর হতে শুরু করল তখন হঠাৎ একদিন নাতাশা জানতে পারল সে রাহেলের জীবনের প্রথম প্রেমিকা না। এর আগেও রাহেলের আরেকজন প্রেমিকা ছিল। নাম মীরা। রাহেলের বন্ধুরা প্রতিনিয়ত মীরার প্রসঙ্গ তুলে নাতাশাকে বিব্রত করে তুলত। কিন্তু নাতাশা যখন রাহেলের কাছে মীরার প্রসঙ্গে জানতে চাইত, রাহেল চুপ মেরে যেত। এই বিব্রতকর অবস্থার ভেতর শুরু হলো আরেক উপদ্রব। নাতাশার মনে হতে থাকল কেউ একজন তাকে সব সময় অনুসরণ করছে। একদিন তার বুকস্টোরের ভেতর ঢুকে সব বই তছনছ করে দিলো কেউ। দেয়ালে রক্ত দিয়ে লিখে রেখে গেল আপত্তিকর একটা শব্দ। নাতাশা বুঝতে পারল এসবের পেছনে রয়েছে মীরা, রাহেলের প্রাক্তন। পাঠক যতই নাতাশা-রাহেলের প্রেম কাহিনি পড়তে থাকবেন ততই একের পর এক ভয়ংকর ঘটনার সম্মুখীন হবেন। আর গল্পের এক পর্যায়ে এসে বুঝতে পারবেন যে, এতক্ষণ যা যা অনুমান করে এসেছেন সব ভুল। পাঠককে আবার নতুন করে ভাবতে হবে সবকিছু। নাতাশার সকল দুর্ভোগের পেছনে আসলে কে? নাতাশার জীবনের গোপন রহস্যটাই বা কী? দ্য বয়ফ্রেন্ড সিডনি এমন একজন বয়ফ্রেন্ড খুঁজছে যার সাথে সে শান্তি আর ভালোবাসাময় একটা জীবন কাটাতে পারবে। আর লোকটা খুঁজছে তার পরবর্তী শিকার। নিউ ইয়র্কের প্রতিটি সিঙ্গেল নারীর মতোই, সিডনি শ’ এর ডেটিংয়ের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। কখনো ভুয়া প্রোফাইলের কেউ তার সাথে সময় কাটাতে চায়। কখনো খাওয়া শেষে ডিনারের বিল তার কাঁধে ফেলে দিয়ে চলে যায়। আর কখনো এমন কারো সাথে তার দেখা হয় যে সারাক্ষণ শুধু তার মায়ের গল্প বলতে থাকে। তবে এবার যেন ভাগ্য সুপ্রসন্ন! নতুন প্রেমিক একেবারে নিখুঁত— আকর্ষণীয়, সুদর্শন, এবং সবচেয়ে বড় পরিচয় লোকটা স্থানীয় একটা হাসপাতালের ডাক্তার। ডাক্তারকে দেখা মাত্রই সিডনি মুগ্ধ হয়ে গেল! কিন্তু এর পরেই উপকূল জুড়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যাকাণ্ড পুলিশকে হতবাক করে দিতে থাকল। সর্বশেষ ঘটনার শিকার হলো সিডনির এক বান্ধবী। প্রধান সন্দেহভাজন এক রহস্যময় ব্যক্তি যে মেয়েদের সাথে ডেট করার পর তাদের হত্যা করে নৃশংসভাবে। সিডনির কিন্তু নিশ্চিন্ত থাকার কথা। সে তো তার স্বপ্নের পুরুষের সাথেই ডেট করছে। কিন্তু এক সময় তার মনে প্রশ্ন জাগে— আপাতদৃষ্টিতে নিখুঁত এই মানুষটা কি সত্যিই নিখুঁত? বয়ফ্রেন্ডের নানা আচরণ তাকে বিরক্ত করে, সন্দেহ জাগায়। মনে হতে থাকে কেউ একজন তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারি করছে। সে বুঝতে পারে সময় মতো সত্য জানতে না পারলে সে-ই হবে খুনির পরবর্তী শিকার। প্রেম, আসক্তি এবং অপরাধের অন্ধকার দিক নিয়ে এক শিহরণ জাগানো গল্প- দ্য বয়ফ্রেন্ড! আবেগের কারণে সৃষ্ট অপরাধই সবসময় ভয়ানক হয়।