ডিসেম্বরের শহরে আকাশ যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। নীলাকে শাড়িতে এক টুকরো মেঘের মতো মনে হচ্ছে। সন্ধ্যার আলো এসে পড়েছে নীলার মুখে। কী স্নিগ্ধ। আকাশ জানে না, সে কাঁদছে। তার অজান্তেই চোখে পানি চলে এসেছে। সে নীলার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না। সে কী বলবে? নীলাকে সে কেন ডেকেছে? আকাশের ভাবনা ক্রমশ এলোমেলো হতে থাকে। যা বলতে চেয়েও বলা যায় না, সে কথা রেখে অন্য কথা বলতে গেলে মানুষ হকচকিয়ে যায়। আকাশ কী বলবে ভেবে না পেয়ে তার মনের সমস্ত কথা কবিতার মতো করে বলতে লাগল— তোমাকে কেন এত মনে পড়ে? কেন আমি তোমাকেই চাই? তোমার সাথে কথা না বললে; কেন আমার বুকের মধ্যে দুঃখ হয়? তোমার কথা কেন ভাবী? কেন তোমাকেই পেতে চাই? তোমাকে না পেলে; কেন আমার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়? তুমি আমাকে বলবে? কেন আমি তোমাকে এত ভালোবাসি? আমি নিজের কাছে জানতে চেয়েছি; কিন্তু সেও বলতে পারেনি! তুমি ছিলে বলেই সাগরের পা থেমে যায়। সে ধীরে ধীরে ফিরে তাকায়। নদী ঠিক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। বিকেলের ম্লান আলো তার মুখে পড়ে কেমন এক বিষণ্ণ আভা তৈরি করেছে। তাকে দেখে সাগরের বুকটা হঠাৎ কেমন নরম হয়ে আসে। অদ্ভুত এক মায়া তাকে ঘিরে ধরে। সে ভাবতে থাকে, কেন সে এতদিন নদীকে এড়িয়ে গেছে? কেন তার খোঁজ নেয়নি? কেন তাকে কষ্ট দিয়েছে? এই প্রশ্নগুলো একসাথে এসে তাকে ভেতর থেকে আঘাত করে। নদী কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর কবিতার মতো করে বলে ওঠে– ‘আমি কে, সাগর?’ ‘তুমি ফুল। শিউলি ফুল।’ ‘শিউলি কেন?’ ‘শিউলি রাতে ফোটে, ভোরেই ঝরে যায়!’ ‘তুমি কে, সাগর?’ ‘আমি গাছ। শিউলি গাছ।’ ‘গাছ কেন?’ ‘গাছ কখনো ফুলকে পায় না।’ ‘সে ধারণ করে, আগলে রাখে আর ফুল ঝরে গেলে সে অন্য কারো।’ ‘আমরা কে, সাগর?’ ‘সংসার!’ ‘সংসার?’ ‘হুম। না হওয়া সংসার দুইজন দুইজনের হয়েও, কেউ কারো নই!’