বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা প্রচলিত বাংলা অভিধানের বাইরে মিত্রাক্ষর নতুন সংযােজন। বাংলায় মিত্রাক্ষর ছন্দ অধিক প্রচলিত হলেও অমিত্রাক্ষর কথাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বদৌলতে উনবিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশকে বেশ জনপ্রিয় হয়। তখন অমিত্রাক্ষর ছন্দকে মাইকেলি ছন্দ বলা হত। এখনাে অমিত্রাক্ষর বলতে মাইকেলের কথা মনে পড়ে। ইংরেজ কবি মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট-এর ব্ল্যাঙ্ক ভার্স-এর বাংলা করেন ন্যাড়া ছন্দ। যে ছন্দে অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নাই' অর্থাৎ ছন্দের পঙক্তির শেষে অক্ষরে অক্ষরে অমিত্রতা বা অমিল তাকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলা হয়। যে ছন্দে শ্লোকের দুই পঙক্তির শেষ দুই শব্দের অক্ষর একপ্রকার অর্থাৎ তাদের মধ্যে মিত্রতা বা মিল তাকে মিত্রাক্ষর ছন্দ বলে। মিত্রাক্ষর বলে আর একটি শব্দ রয়েছে যার অর্থ পরিমিতবর্ণ, স্বল্পাক্ষর বা ছন্দোবদ্ধ। বাংলাভাষার বিশাল শব্দভাণ্ডার থেকে মিত্রাক্ষর সংকলন করা এক দুঃসাধ্য কাজ। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সেই দুরুহ দুঃসাধ্য অভিধান সম্পাদনা করলেন । যথাশব্দ-এর পর মিত্রাক্ষর তার অন্যতম গ্রন্থ। যে-কোনাে শব্দসন্ধিৎসু পাঠকের কাছে মিত্রাক্ষর সাদরে গৃহীত হবে।