‘বঙ্গালী ভইলী’ — মোখলেস মুকুল-এর কলমে ইতিহাস ও ঐতিহ্য: গবেষণা ও প্রবন্ধ। প্রকাশক অনুপ্রাণন প্রকাশন। সব মিলিয়ে ৩৬৬ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 2nd Edition, 2024।
বাংলা ভাষার ইতিহাসের প্রাচীনতম যুগ। তখন একমাত্র লেখ্যভাষা সংস্কৃত- পঠন অন্ত্যজশ্রেণির ঘোর নিষিদ্ধ। নিম্নবর্ণের একদল লোক অত্যাচার সহ্য করে প্রাকৃত ভাষার প্রথম লেখ্যরূপ দান করেন- ধর্মের বাতাবরণে চর্যাপদ। তাদের প্রতিপক্ষ আর্যব্রাহ্মণ। দহনকালের সেই ঊষালগ্নে যাপিতজীবনের কিছু নরনারীকে আবর্ত করে এই কাহিনি। ক্ষেত্রকরপুত্র হালিক ধীবরপুত্র জালিককে বলে- আমার আর বিদ্দাজ্জন হলো না রে। চুরি করে পড়া শিখতে গিয়ে সামন্তপ্রভুর হাতে হালিক নিহত- জালিক নিরুদ্দেশ- একদা হয়ে ওঠেন রাজপুত্র সামন্তশুভ। উরুবিল্বে বোধিসত্ত্ব লাভ করতে গিয়ে দেখা হয় ধেনুর সঙ্গে- সুন্দরী ব্রাহ্মণকন্যা- বৌদ্ধতান্ত্রিক দলের সাথে ঘুরে বেড়ান এদেশ-সেদেশ- কালক্রমে হয়ে ওঠেন চাটিলা কুক্কুরীপা, সাথে এক কুক্কুরী- পূর্বজন্মে মানবী ছিলো। সামন্তশুভ আসেন সিদ্ধাচার্য শবরপার চর্যাগৃহে। দীক্ষা গ্রহণ শেষে বারো বছর গঙ্গাধারের নির্জনে কাটিয়ে দেন, নাম হয় লুই বা মৎস্যান্ত্রাদ।
তাঁর মাথার ওপর রক্ষাকবজের মতো উড্ডীন এক অচিনপাখি। তান্ত্রিকশক্তি দেখে লুইয়ের শিষ্য শালীপুত্রের রাজা ইন্দ্রপাল দীক্ষা নিয়ে সিদ্ধাচার্য দারিকপা হলেন আর কুক্কুরীপার শিষ্য ওড্ডিনের রাজা ইন্দ্রভূতি হলেন তান্ত্রিক সাধক। শতবর্ষী সবজান্তা গঙ্গাধর জম্বুদ্বীপময় ঘুরে বেড়ান আর বলে বেড়ান অজানা কাহিনি। প্রাকৃত ভাষার অইসব সৈনিকদের পদ্ধতি কমলশীল বলেছেন বঙ্গালী এবং ভাষাপিতা।
বিশেষ করে ইতিহাস, সমাজ ও রাজনীতিতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।