লেখক তানভীর মোকাম্মেল-এর ‘বাঙালির মেধা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ পাঠকের সামনে এসেছে বিবিধ বিষয়ক প্রবন্ধ হিসেবে। অনার্য পাবলিকেশন্স-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ২৮৮ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2017।
ঢাকা থেকে বিশ কিলোমিটার দূরে বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে রয়েছে, স্থানীয় মানুষদের ভাষায়- 'নাস্তিকের ভিটা'। অতীশ দীপঙ্করের পৈতৃক ভিটা সেটি যে অতীশ দীপঙ্কর আজ থেকে হাজার বছর আগে বৌদ্ধ শাস্ত্রের ওপর বেশ কয়েকটি বই ও পুস্তিকা লিখেছিলেন। জগৎজোড়াই এক উজ্জ্বল নাম অতীশ দীপঙ্কর যাঁর সম্পর্কে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের শ্রদ্ধা নিবেদনটি ছিল; "বাঙ্গালি অতীশ লঙ্ঘিল গিরি তুষারে ভয়ঙ্কর জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে বাঙ্গালি দীপঙ্কর।" ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের মেধাবী বক্তৃতাটি আমেরিকাবাসী তথা বিশ্ববাসীকে এক দিন মুগ্ধ করেছিল এ নিয়ে গর্ববোধ করতে ভালোবাসেন বাঙ্গালিরা। আর ওঁর মেধার আন্তরিকতায় বিদ্যাসাগর ঠিকই বুঝেছিলেন ভাববাদী বেদ-বেদান্ত-সাংখ্য এ সবই হচ্ছে ভ্রান্ত দর্শন। আর মাইকেল উল্টিয়ে দিয়েছিলেন রামায়ণের গল্পের গোটা জগৎটাকেই। আর সৃষ্টির সতত নির্ঝর ধারায় তো ছিলেনই- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজো রয়েছেন বহুমুখী মেধার অমর্ত্য সেনসহ আরো অনেকেই। শাণিত মেধায় বাঙ্গালি কোনো কালেই পিছিয়ে ছিল না। বাঙ্গালি আজ যা চিন্তা করে বাকী ভারতবর্ষ তা চিন্তা করে অনেক পরে, একথা বাঙ্গালিরা বলেনি, অন্যেরা বলেছেন। আসলে মেধার ক্ষেত্রে বাঙ্গালির এই অগ্র-অবস্থান মেনে নিয়েছিল ভারতবর্ষের অন্যান্য জাতিসত্ত্বা। কিন্তু আজ কী অবস্থা বাঙ্গালির সেই উজ্জ্বল মেধার?
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।