আঠারো বছরের এক তরুণ, চোখে যার আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। অভাবের সংসারে ঘাম ঝরিয়ে তিল তিল করে জমানো টাকায় সে পা বাড়িয়েছিল অজানার পথে। উদ্দেশ্য আগ্রায় গিয়ে তাজমহল দেখা। কিন্তু সীমান্ত পেরোতেই সে এক দুর্ভাগ্যের কবলে পড়ল। কথায় বলে ‘নামে নামে যমে টানে’। কেবল নামের মিল আর চেহারার সাদৃশ্যের কারণে এক ভয়ংকর খুনের দায় এসে পড়ল তার কাঁধে। এরপর শুরু হলো এক দীর্ঘ অন্ধকার যাত্রা—দিল্লির তিহার জেল থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার। যে অপরাধ সে করেনি, সেই অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে জীবনের মূল্যবান ১৮টি বছর তাকে কাটাতে হলো প্রথমে ভারত এবং পরে স্বদেশের কারাগারে। বাদলের কারাবাস কেবল একজন ভাগ্যবিড়ম্বিত তরুণের বন্দী জীবনের গল্প নয়; এটি আমাদের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং এক পরিবারের বুকফাটা হাহাকারের জীবন্ত দলিল। একটি সত্য ঘটনার ছায়ায় রচিত এই উপন্যাস পাঠককে ভাবাবে, কাঁদাবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের অসংগতির মুখোমুখিও দাঁড় করিয়ে দেবে।